সারি সারি পাহাড়, বিশাল ঝরনাধারা, বিছানাপাতা পাথরের ওপর দিয়ে প্রবহমান স্বচ্ছ জলের ধারা, সবুজ চা বাগান প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণে সরগরম থাকে সিলেট। আর ঈদ কিংবা অন্য কোনো উৎসবের ছুটি মিললে তো কথাই নেই। প্রতিবার ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটে পুণ্যভূমি খ্যাত সিলেটে। এবারও ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে লাখো পর্যটক বরণ করতে প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা আবহাওয়া ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঈদের ছুটিতে শতকোটি টাকার ব্যবসা হবে। আর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন আকর্ষণের শীর্ষে রয়েছে সিলেট। সিলেটের প্রকৃতিকন্যা জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, পান্তুমাই ও দিগন্তজোড়া চা-বাগানের টানে সারা বছরই এখানে ছুটে আসেন পর্যটকরা। এর বাইরে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারতেও অসংখ্য পর্যটক আসেন এ পুণ্যভূমিতে।
এবার ঈদে লম্বা ছুটি পেতে যাচ্ছেন দেশবাসী। রোজা ৩০টি হলে ঈদ হবে ১ এপ্রিল। আর ২৯ রোজা হলে ঈদ হবে ৩১ মার্চ। ফলে ঈদের পর ৫ থেকে ৬ দিনের দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন দেশবাসী। তাই এবার সিলেটে অন্যবারের চেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা। আর এবারের ব্যবসা দিয়ে গেল কয়েক বছরের বন্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতায় যে ক্ষতি হয়েছে তা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের বরণ করতে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা তাদের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো সংস্কার করেছেন। পর্যটক আকর্ষণে কেউ কেউ হোটেলে নতুন করে সাজসজ্জাও করেছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সিলেটের ভালো মানের হোটেলগুলোর প্রায় ৭৫ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছেন।
নগরীর জিন্দাবাজারের হোটেল গোল্ডেন সিটির মহাব্যবস্থাপক মলয় দত্ত মিষ্টু জানান, ইতোমধ্যে তাঁর হোটেলের দুই তৃতীয়াংশ রুম ঈদের পরবর্তী এক সপ্তাহের জন্য বুকিং হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে বাকি রুমও বুকিং হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অগ্রিম বুকিং দিয়ে না এলে এবার সিলেট এসে পর্যটকরা হোটেল নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এটিএম শোয়েব আহমদ জানিয়েছেন, লম্বা ছুটি থাকায় সিলেটে গেল কয়েক বছর থেকে এবার বেশি পর্যটক সমাগম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার এএসপি মো. সম্রাট তালুকদার। তিনি জানান, পর্যটন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সব পর্যটন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে বেড়াতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে গাইড রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারা পর্যটকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে।