তিন বছর আগে ঢাকার শাহজাহানপুরে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতিকে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহতের ঘটনার পর তিন বছর কেটে গেলেও শেষ হয়নি বিচার। কবে নাগাদ বিচার শেষ হবে তাও বলতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ। বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ তিন-এর বিচারক মুহা. আবু তাহেরের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে ওইদিন সাক্ষ্য দিতে কেউ আদালতে হাজির হয়নি। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করে। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৫ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানান, ৪-৫ মাস আগে আমি পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। যতটুকু শুনেছি এ মামলায় বাদীর জেরার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তবে তিনি আদালতে আসছেন না। এজন্য সাক্ষ্য গ্রহণ আটকে গেছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। বিচারকার্য দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিজাম উদ্দিন মাহমুদ জানান, মামলাটির বাদীর সঙ্গে আমরা যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করছি। কিন্তু উনাকে কোনোভাবেই রিচ করতে পারছি না। এই মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বাদী।
বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে অন্যদের সাক্ষ্য নেওয়া সহজ হয়।
বাদী পক্ষের আইনজীবী গাজী জিল্লুর রহমান জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাদী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। যে কারণে তিনি আদালতে এসে সাক্ষ্য দিতে পারছেন না। এই সুযোগে আসামিরা জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবশ্যই তিনি আদালতে এসে সাক্ষ্য দেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে টিপুর স্ত্রী মামলার বাদী ফারহানা ইসলাম ডলির সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালের ২৪ মার্চ রাতে শাজাহানপুর আমতলা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং কলেজছাত্রী প্রীতি। ২০২৩ সালের ৫ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইয়াসিন শিকদার ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে উঠে আসে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ ৩৩ জন আসামিদের নাম।
২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল আদালত ৩৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই বছরের ২০ জুন মামলার বাদী ফারহানা ইসলাম ডলি সাক্ষ্য দেন। ওইদিন আদালত জেরার জন্য ১৮ জুলাই দিন ধার্য করেন। পরে এ মামলায় কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।