বন্দর নগরীর চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কেনাকাটা পুরোদমে জমে উঠেছে। নগরীর ফুটপাত থেকে পাঁচতারকা শোরুম কোথাও এখন তিলধারণের ঠাঁই নেই। ক্রেতাদের আনাগোনা সর্বত্র। তবে ঈদবাজারে পোশাকের অস্বাভাবিক দাম লক্ষ করা গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগের শেষ নেই। শোরুমগুলোতে ইচ্ছামতো দামে পণ্য বিক্রি করলেও দেখার যেন কেউ নেই। এ ছাড়া দেশীয় পোশাককে পাকিস্তান ও ভারতের দাবি করে বাড়তি দাম নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে চট্টগ্রামের সানমার ওশান সিটি, বিপণিবিতান, টেরিবাজার ও রেয়াজউদ্দিন বাজারের শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। রোজার শুরু থেকেও এসব শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড় ছিল। তবে শুরুর দিকে বিক্রির পরিমাণ ছিল কম। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বাড়ছে। ঈদ উপলক্ষে পণ্যসামগ্রীর বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রায় সব মার্কেটেই। এর মধ্যে নগরীর ২নং গেট এলাকায় আড়ং শোরুম থেকে কেনাকাটা করা আবদুল আওয়াল বলেন, ‘এক পিসের একটি সুতি জামার দাম নিচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার ওপরে। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক দাম হতে পারে না। দেশীয় তৈরি এক পিসের সুতি একটি কামিজের দাম তিন হাজার কী করে হয়। কিন্তু তারা দেদার বিক্রি করছে। দেখার কেউ নেই।’ ক্রেতাদের অভিযোগ, নামকরা অনেক ব্র্যান্ডেড শোরুমে ঈদ ঘিরে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আগের ট্যাগ সরিয়ে নতুন করে বাড়তি দাম বসিয়ে প্রাইস ট্যাগ বসানোরও অভিযোগ করেছেন অনেকে। তবে নামমাত্র কিছু শোরুমে ঈদ উপলক্ষে সুনির্র্দিষ্ট কিছু পণ্যে ছাড় দিতেও দেখা গেছে। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। সানমার ওশান সিটির ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, বড় শপিং মলগুলোতে দোকান ভাড়া বেশি। স্টাফ খরচ বেশি। এর সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা শীততাপ যন্ত্র, জেনারেটরসহ নানাবিধ বাড়তি খরচ বহন করতে হয় দোকানিদের। এ কারণে বাড়তি খরচ পুষিয়ে আনতে দাম কিছুটা বাড়তি হতে পারে।