বগুড়ার শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার সহকারী মৌলভি শিক্ষক মাওলানা ইয়াসিন আলীকে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৪১ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষদিন ছিল গতকাল তাঁর। এদিন দুপুরে সুসজ্জিত ঘোড়ার টমটম গাড়িতে তাঁকে নিজ বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এর আগে একই দিন বেলা ১০টায় তাঁর অবসরগ্রহণ উপলক্ষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেন মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। চাকরি জীবনের বিদায়বেলায় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন ইয়াসিন আলী। উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা ইয়াসিন আলী ১৯৯০ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ছয় বছর স্থানীয় খামারকান্দি দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন।
জানা যায়, মাওলানা ইয়াসিন আলীর চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে গতকাল তাঁকে বিদায় জানাতে সাজানো হয় মাদরাসা প্রাঙ্গণ। আলোচনা সভার পর জানানো হয় সম্মাননা। পরে প্রিয় শিক্ষককে কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় সুসজ্জিত ঘোড়ার টমটম গাড়িতে। টমটম গাড়ির আগেপিছে ছিল মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের বহর। গাড়িতে ওঠার সময় ফুল ছিটিয়ে ও ফুলের মালা পরিয়ে জানানো হয় বিদায়। এ সময় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের এমন আয়োজনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইয়াসিন আলী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি বিদায় নিচ্ছি কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের আদর্শবান এবং মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।’ তখন শিক্ষার্থীদের অনেককে কাঁদতে দেখা যায়। সহকর্মীর বিদায় প্রসঙ্গে মাদরাসাটির অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদায় বড় কষ্টের, তবুও মানতে হবে। আমাকেও এভাবে একদিন বিদায় নিতে হবে।’