রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মহিবুল হাসানের একখন্ড জমি ছিল। সেই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হয় ‘গ্রিন প্লাজা রিয়েল এস্টেট’ নামের একটি আবাসন কোম্পানি। এর মালিক মোস্তাফিজুর। কিন্তু অধ্যক্ষ ডা. মহিবুল হাসানের অভিযোগ, মোস্তাফিজের সঙ্গে চুক্তির পর তিনি কোনো শর্তই মানেননি। এরপর মহিবুল চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হন। এজন্য মোস্তাফিজকে ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান মহিবুল হাসান। শুধু তিনিই নন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইসলামও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে ২৫ লাখ টাকা নেন মোস্তাফিজ। কিন্তু পরে জানতে পারি, ওই ফ্ল্যাট আরেকজনের কাছে তিনি বিক্রি করেছেন। শেষে আমি মেয়র সাহেব (তৎকালীন) ও নগর পুলিশের কাছে অভিযোগ করি। পরে আরেকটি ফ্ল্যাট লিখে দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়।’ আরেকজন রাজশাহী গোদাগাড়ীর বাসিন্দা এজাজুল হকের দাবি, ফ্ল্যাট বিক্রি বাবদ তার কাছ থেকে মোস্তাফিজ ১২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এটিও অন্যজনের কাছে বিক্রি করেন মোস্তাফিজ। তিনি টাকা ফেরত চাইলে তাকে রাজশাহীতে ডেকে নেওয়া হয়। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে সহযোগীদের দিয়ে এজাজের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তিপত্রের মূল কাগজ কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে এজাজকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এজাজুল হক বলেন, ‘আমার মতো অনেক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে মেস্তাফিজ। সে প্রতারণা করেই কোটিপতি হয়েছে।’
একই ফ্ল্যাট বারবার বেচে এখন কোটিপতি মোস্তাফিজুর রহমান। তার বিরুদ্ধে আবাসন ব্যবসার নামে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ ও আদালত মিলিয়ে কয়েকটি অভিযোগ আছে। প্রতারণার অভিযোগে তার সদস্য পদ বাতিল করেছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিডা (রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন)।
২০২০ সালে আবাসন ব্যবসায় নামেন মোস্তাফিজুর রহমান। ‘গ্রিন প্লাজা রিয়েল এস্টেট’ নামে মোস্তাফিজ রাজশাহী নগরীতে আবাসন ব্যবসা শুরু করেন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে মোস্তাফিজুরের সঙ্গে কথা বললে তিনি দাবি করেন, ‘কয়েকটি ফ্ল্যাট নিয়ে সমস্যা ছিল। সেগুলোর অনেকটাই সমাধান করেছি। কিছু ঝামেলা আছে, সেগুলোও সমাধান করা হবে। তবে আমি কারও সঙ্গে প্রতারণা করিনি।’
রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক মানুষ অভিযোগ নিয়ে আসছিল। প্রায় এনিয়ে সালিশ করতে হতো। পরে রিডা থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।