পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘিরে একাধিক আঞ্চলিক গোষ্ঠী নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ও পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চালানো হচ্ছে নানা অপপ্রচার।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব গোষ্ঠী তাদের একমাত্র বাধা নিরাপত্তা বাহিনীকে পরাস্ত করতে অপপ্রচার, সাইবার প্রপাগান্ডা আর হেইট ক্যাম্পেইনের মতো নানা পন্থা বেছে নিয়েছে। এসবের উদ্দেশ্য, জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। এসব অপপ্রচারের সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমকে ব্যাহত করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার। একই সঙ্গে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলেও এ-সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি রাঙামাটি জেলার বন্দুকভাঙা রেঞ্জে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ঘিরে এমনই কিছু অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রাঙামাটি জেলার দুর্গম বন্দুকভাঙা রেঞ্জের মারিচুক ও যমচুগ এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি সেনা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফ আঞ্চলিক দলের কর্মীদের গুলিবিনিময়ের ঘটনায় একজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়। পাশাপাশি উদ্ধার হয় অ্যাসল্ট রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ধ্বংস করা হয় সন্ত্রাসীদের একাধিক ঘাঁটি, এমনকি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও। তবে এ ঘটনার পরপরই একটি নির্দিষ্ট মহল দাবি করে যে, সেনাবাহিনী যমচুগে অবস্থিত ভাবনাকেন্দ্র অবমাননা করেছে। কেন্দ্রটি দখল করে সেখানে ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করছে এবং জোরপূর্বক স্থানীয় লোকদের উচ্ছেদ করছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী যেন ওই স্থানে অবস্থান না নেয়। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই এলাকায় তাদের আভিযানিক কাজ সমাপ্ত করে ব্যারাকে ফেরত আসার সঙ্গে সঙ্গেই ওই স্থানের দখল নেওয়ার জন্য আঞ্চলিক দুই সশস্ত্র দল জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি, যার রেশ এখনো কাটেনি। স্থানীয় জনসাধারণ জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নেন পাশের এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রমতে, ভূপ্রকৃতিগত কারণে বন্দুকভাঙা এলাকাটি দুষ্কৃতিসহায়ক। দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জেএসএস ও ইউপিডিএফ নামধারী আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র কর্মীরা এলাকাটিকে ত্রাসের রাজ্যে পরিণত করে রেখেছে। এমনকি ওই স্থানের দখল নিতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে গত কয়েক বছরে নিহত হয়েছে বেশ কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। মূলত এ কারণেই সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে সন্ত্রাস নির্মূলে অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়রা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত আঞ্চলিক সশস্ত্র দলের চাঁদাবাজি, গুম, খুন আর অস্ত্রবাজিতে কোণঠাসা হয়ে আছে পাহাড়ি জনপদ। অবস্থার উত্তরণে একমাত্র আস্থা খোদ নিরাপত্তা বাহিনীই এখন দুর্বৃত্তদের অপপ্রচারণার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।