স্বামীর দিনমজুরির আয়ে সংসার চলে না। অর্ধাহার-অনাহার যেন নিত্যসঙ্গী। এমন দুর্দশায় স্বামীকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন মনিরা আক্তার (২৭)। কাজের সন্ধান করেছিলেন, কিন্তু দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের কারণে বাইরে কাজ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে, ঘরে বসেই কাজ করার স্বপ্ন পূরণ করলো বসুন্ধরা গ্রুপ।
রবিবার বেলা ১১টায় নীলফামারী জেলা সদরের খোকসাবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব খোকসাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ২০ দরিদ্র নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। তিন মাস প্রশিক্ষণের পর তাদের হাতে এই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
মনিরার গল্প: অবশেষে স্বপ্ন ছোঁয়ার আনন্দ
মনিরা জানান, প্রায় এক যুগ আগে খোকসাবাড়ি গ্রামের মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। সংসারে আসে দুই সন্তান—বেবী আক্তার (১০) ও বাবু মোজাহিদ। জন্ম থেকেই তারা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তারা নিজেরা হাঁটতে-চলতে পারে না, এমনকি নিজ হাতে খেতেও পারে না। ফলে সারাক্ষণ সন্তানদের দেখভালে ব্যস্ত থাকতে হয় মনিরাকে।
দীর্ঘদিন ঘরে বসে কিছু করার স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। তবে বসুন্ধরার দেওয়া সেলাই মেশিন সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। আনন্দে তিনি বলেন, ‘সংসারে খুব কষ্ট। স্বামীর কিষান খাটার কামাই দিয়ে ছয়জন মানুষের খাবার চলে না। কিন্তু দুই ছাওয়াকে ফেলে বাড়ি থাকি কাজেও যেতে পারি না। এখন বসুন্ধরার মেশিন দিয়া বাড়িত বসি সেলাইয়ের কাজ করে কামাই করির পারিমো। সংসারেও সহযোগিতা করির পারিমো।’
লেখাপড়া চালানোর নতুন আশা আঁখির
একই অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন পেয়েছেন খলিশাপচা গ্রামের আঁখি আক্তার (১৯)। তিনি দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা অলিয়ার রহমানের দিনমজুরির আয়ে চলে সাত সদস্যের পরিবার। সংসারের অভাবের কারণে এসএসসি পরীক্ষার আগেই পরিবারের সদস্যরা তার বিয়ে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু আঁখি তাতে রাজি হননি, বরং পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
অভাবের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে গ্রামে টিউশনি করতে চেয়েও ব্যর্থ হন আঁখি। এরপর সহজ উপায়ে আয়ের পথ খুঁজতে থাকেন। সেই সময় বসুন্ধরা গ্রুপ তাকে সেলাই মেশিন দেয়। সেলাই মেশিন হাতে পেয়ে আঁখি বলেন, ‘বাড়িতে বসে সেলাইয়ের কাজ করে লেখাপড়া চালানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু বাবার পক্ষে সেলাই মেশিন কেনা সম্ভব হয়নি। বসুন্ধরা গ্রুপ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। এখন নিজের আয়ে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারবো, ভাই-বোনদেরও সাহায্য করতে পারবো।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উচ্ছ্বাস রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মো. মনিরুজ্জামান মন্টু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব খোকসাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা চৌধুরী, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. মামুন, কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ভুবন রায় নিখিল, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত রাফি, সদস্য ফরিদ মিয়া, আমিনুর রহমান, মো. গোলাম হোসেন, নিউজ-২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রশীদ শাহ এবং শুভসংঘের জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপু রায় প্রমুখ।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল