দেশে কৃষিজমির মাটির উর্বরতা শক্তি ক্রমেই কমছে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির কারণে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে। এসব অনুর্বর ফসলি জমির উর্বরতা ফেরাতে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে কৃষকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক-কৃষাণীদের নিয়ে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে কৃষাণী জাহানারা খাতুন, কৃষক বাসির মিয়া, মো. শামীম ও রিপন মিয়া বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হয়, যাতে কৃষক-কৃষাণীরা তাঁদের সমস্যা ও সমাধান বিষয়ে জানতে পারেন। এতে তাঁরা বেশ উপকৃত হয়েছেন বলে জানান।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, দেশে আবাদি, বনভূমি, নদী, লেক, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সুন্দরবনসহ জমির পরিমাণ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর।
প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২০ সালে জৈব পদার্থের ঘাটতি পাওয়া গেছে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাবে জমির উর্বরতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
কৃষক বাসির মিয়া বলেন, "আমরা গ্রামের সাধারণ কৃষক। ছোটবেলায় দেখেছি বাবা-চাচারা নিজেরাই সার তৈরি করে জমিতে দিতেন। এখন বেশি পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। এক খেতে একাধিকবার ফসল চাষ করতে হচ্ছে। আমাদের উচিত জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ানো। এজন্য অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।"
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন বলেন, "দিনে দিনে আমাদের দেশে অনুর্বর জমির পরিমাণ বাড়ছে। যদি এভাবে মাটির উর্বরতা নষ্ট হতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি সংকটে পড়বে। মাটির ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এমন সচেতনতামূলক আয়োজন করার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ। কৃষকদের এ বিষয়ে সচেতন করা খুবই জরুরি।"
বিডি প্রতিদিন/আশিক