অনুপ্রেরণার উৎস ও অহংকার রংপুরের প্রথম শহীদ মিনার। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এই শহীদ মিনার হয়ে ওঠে নগরীর প্রাণের স্পন্দন। শহীদ মিনারটি গড়ে তোলা হয়েছিল ১৯৫৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি ময়দানে লাইব্রেরি ভবনের মাঝখানের হলরুমের ঠিক সামনে ছোট আকারে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। ছাত্ররা ইট, সিমেন্ট, বালু জোগাড় করে মিনারটি নির্মাণ করেন। শহরের গুপ্তপাড়ার ডাক্তার মোজাহারের বাড়ি এবং আরও কয়েক স্থান থেকে ইট সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে সিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয় পৌরসভা পুকুরের কাদামাটি। রাতারাতি দাঁড় করানো হয় রংপুর শহীদ মিনারটি। বিষয়টি রাতেই শহরে জানাজানি হয়ে যায়। পরদিন ভোর বেলা এই শহীদ মিনারেই রংপুরের জনতা অমর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। তখন ভোর বেলা খালি পায়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে যেত শহীদ মিনারে। শহীদদের স্মরণে বুকে লাগানো থাকত কালো ব্যাজ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটিই ছিল রংপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
স্বাধীনতার পর বড় আকারে রংপুরে দ্বিতীয়বারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) তৎকালীন জেলা নেতা আজিজুল হক অ্যাডভোকেট ও জননেতা মোহাম্মদ আফজালের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক কমিটি গঠিত হয়। শহীদ মিনারটি প্রথম শহীদ মিনারের স্থানের পূর্বদিকে বর্তমান শহীদ মিনারের স্থানেই নির্মিত হয়। মরহুম আজিজুল হক অ্যাডভোকেট এ সময় পাবলিক লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ছিলেন। দ্বিতীয় শহীদ মিনারটির নকশা করেছিলেন গণপূর্ত বিভাগের রংপুর মেডিকেল ডিভিশনের প্রকৌশলী নুরুদ্দীন আহমেদ।
রংপুরের বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি ১৯৮১ সালে তৎকালীন পৌরসভা কমিটি নির্মাণ করে। তখন রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ আফজাল। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির জায়গায় স্থায়ীভাবে এই শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রাউতপাড়া গ্রামের অধিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজু চৌধুরী এই কাজে রংপুর পৌরসভার কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক নেননি।