লোকেশ রাহুলের ছক্কায় ফের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারত। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল খেলবেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা। ‘মরুশহর’ দুবাইয়ে ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল ভারত। সেটাই হয়েছে। ৯ মার্চ দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির নবম আসরের ফাইনালে রোহিত বাহিনীর প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের জয়ী দল। রোহিতরা ফাইনালে উঠেছেন ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগে অলরাউন্ডিং ক্রিকেট খেলে। প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ১১ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আহমেদাবাদে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ছক্কা মেরে ভারতকে চতুর্থবারের মতো ফাইনালে নিয়ে যান রাহুল। ২০১৩ ও ২০১৭ সালের পর টানা তৃতীয়বার ফাইনাল খেলবে ভারত। আইসিসির সর্বশেষ তিনটি বৈশ্বিক আসরের ফাইনাল খেলছে দলটি। ওয়ানডে বিশ্বকাপে রানার্সআপ, টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে উঠেছে রোহিত বাহিনী। ফাইনালে উঠে রোহিত অনন্য এক কীর্তি গড়েন। ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে আইসিসির সব বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছেন। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ানডে, টি-২০ বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে উঠেছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
দুবাইয়ে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচই খেলেছে ভারত। খেলেছে ভিন্ন ভিন্ন উইকেটে। মরুশহরে এই প্রথম খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট যতটা পরিচিত রোহিত, কোহলি, পান্ডিয়া, রাহুল, শামিদের কাছে, ঠিক ততটাই অপরিচিত স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড, মার্নাশ লাবুশেন, অ্যাডাম জাম্পা, অ্যালেক্স কেয়ারিদের কাছে। দুবাইয়ের মন্থর গতির উইকেটে দুই দল একাদশ সাজায় স্পিনারদের প্রাধান্য দিয়ে। ভারত খেলায় চার স্পিনার এবং অস্ট্রেলিয়া তিনজন। স্পিন আধিক্যের সেমিফাইনালে টস হারেন রোহিত। টানা ১১ ম্যাচে টস হারেন ভারতীয় অধিনায়ক। টানা ১২ টস হেরে সবার ওপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা। টস জিতে ব্যাটিং করে স্মিথের অস্ট্রেলিয়া। ৪৯.৩ ওভারে ২৬৪ রানে অলআউট হয় ওয়ানডে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নিয়মিত ওপেনার ম্যাথু শর্টের পরিবর্তে খেলেন বাঁ হাতি স্পিন অলরাউন্ডার কুপার কনোলি। ওপেন করলেও শূন্য রানে আউট হন কনোলি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হেড ও অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ৫০ রান যোগ করেন ৩৮ বলে। হেড ৩৯ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে স্মিথ-লাবুশেন জুটি যোগ করেন ৫৬ রান। লাবুশেন ২৯ রানে আউট হন। জশ ইংলিস-স্মিথ জুটি যোগ করেন ৫৬ রান। দলীয় ১৯৮ রানে শামির বলে বোল্ড হন স্মিথ। ৯৬ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৭৩ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। অধিনায়কের বিদায়ের পর দলকে টেনে নিয়ে যান উইকেটরক্ষক ব্যাটার কেয়ারি। ১০৭.০১ স্ট্রাইক রেটে কেয়ারি ৬১ রানের ইনিংস খেলেন ৫৭ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায়।
টার্গেট ২৬৫ রান। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুবাইয়ে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। আগের তিন ম্যাচে দলগত সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ভারতের ২৪৯। সে হিসাবে ওভারপ্রতি ৫.৩ রান একেবারেই কম নয়। টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ভারতের দুই ওপেনার শুভমান ও রোহিত সাজঘরে ফিরেন ৪৩ রানের মধ্যে। এরপর ম্যাচসেরা কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ার তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯১ রান যোগ করেন ১৮.৩ ওভারে। আইয়ার ৪৫ রানের ইনিংস খেলে জাম্পার গুগলিতে বোল্ড হন। এরপর কোহলি ও অক্ষার প্যাটেল ৪৪ রান যোগ করেন ৫৬ বলে। কোহলি ক্যারিয়ারের ৩০১ ওয়ানডেতে ৭৪তম হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে সাজঘরে যখন ফেরেন, তখনো ভারত জয় থেকে একটু দূরে। কোহলি ৯৮ বলে ৮৪ রানের ইনিংসটি খেলেন ৫ চারে। শেষ দিকে রাহুল ও রবীন্দ্র জাদেজা দ্রুতলয়ে ব্যাটিং করে ১১ বল হাতে রেখেই জয়োচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। পান্ডিয়া ২৮ রান করেন ২৪ বলে এক চার ও ৩ ছক্কায়। রাহুল অপরাজিত থাকেন ৪২ রানে। ৩৪ বলের ইনিংসটিতে ছিল ২টি করে চার ও ছক্কা।