‘সিটি-কিলার’ নামে পরিচিত গ্রহাণু ‘২০২৪ YR4’-এর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা।
নাসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০৩২ সালে এই গ্রহাণুর পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা পূর্বে যেখানে ৩.১ শতাংশ বলে মনে করা হয়েছিল, তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় শূন্য শতাংশে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এই সম্ভাবনা মাত্র ০.০০১৭ শতাংশ। একই ধরনের মূল্যায়ন করেছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA), যারা জানিয়েছে, সংঘর্ষের সম্ভাবনা ০.০০২ শতাংশ।
নাসার মতে, গ্রহাণুটি ২০৩২ সালে পৃথিবীর কাছ দিয়ে নিরাপদে অতিক্রম করার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯৮৩ শতাংশ, যা ১:৫৯,০০০ অনুপাতে সংঘর্ষের ঝুঁকি প্রকাশ করে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রহাণুর চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা ১.৭ শতাংশ, তবে পৃথিবীর ক্ষেত্রে এটি খুবই নগণ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
নাসা সোমবার জানায়, প্রথমবার আবিষ্কারের সময় ‘২০২৪ YR4’ গ্রহাণুর পৃথিবীতে আঘাত হানার লক্ষণীয় সম্ভাবনা ছিল।
নাসা আরও জানায়, গ্রহাণুটির পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার ফলে মাইনর প্ল্যানেট সেন্টার-এ নতুন নতুন তথ্য জমা হতে থাকে। এরপর নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির সেন্টার ফর নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ এর বিশেষজ্ঞরা এর কক্ষপথের আরও নির্ভুল মডেল তৈরি করেন এবং এখন নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অন্তত আগামী এক শতাব্দীর মধ্যে এটি পৃথিবীর জন্য কোনো বড় হুমকি তৈরি করবে না।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এই গ্রহাণুটিকে ট্র্যাক করে আসছে, যা প্রতি চার বছর অন্তর পৃথিবীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করে। এর কক্ষপথ ও আকার বিশ্লেষণের জন্য একাধিক টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে আরও নির্ভুল তথ্যের মাধ্যমে ২০৩২ সালে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আরও কম বলে প্রমাণিত হবে।
২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর, গ্রহাণুটি প্রথমবারের মতো মাইনর প্ল্যানেট সেন্টার-এ নিবন্ধিত হয়। এটি আনুমানিক ১৩০ থেকে ৩০০ ফুট চওড়া, যা একটি গোটা শহর ধ্বংস করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী।
এটি প্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নজরে আসে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর, যখন এটি নাসার স্বয়ংক্রিয় সেন্ট্রি রিস্ক লিস্ট-এ অন্তর্ভুক্ত হয়। এই তালিকায় এমন সব গ্রহাণু থাকে, যেগুলোর ভবিষ্যতে পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের শূন্যের চেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগেও অনেক মহাজাগতিক বস্তু এই তালিকায় উঠে এসেছে, তবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অধিকতর সঠিক তথ্য সংগ্রহের পর সেগুলোর ঝুঁকি বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে। ‘২০২৪ YR4’-ও একই পথে এগোচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল