হা-মীম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আহসানুল্লাহকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও গাড়িচালক মো. সাইফুল ইসলাম, সহযোগী নূর নবী, ইসরাফিল ওরফে ইসরান ও মো. সুজন ইসলাম। গত শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আহনাফ রাসিব বিন আলম।
তিনি বলেন, গত ২৩ মার্চ বিকালে হা-মীম গ্রুপের জিএম মো. আহসানুল্লাহ কর্মস্থল ত্যাগ করে বাসার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পরিবার এ সংক্রান্তে র্যাবে অভিযোগ করেন। অভিযোগের সময় তারা জানান, জিএম আহসানুল্লাহ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে গাড়িচালক সাইফুল সন্দেহজনক আচরণ করছিল। পরিবারের সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটক করে পুলিশে তুলে দিতে চান। ঠিক এ সময় সাইফুল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় নিজ বাড়িতে চলে যায়। ২৫ মার্চ দুপুরে জিএম আহসানউল্লাহর লাশ উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোড থেকে উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে র্যাব-১ এবং র্যাব-১৩ অপহরণ মামলায় অভিযুক্ত এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। পরবর্তীতে সাইফুলকে গাইবান্ধা থেকে এবং নূরনবীকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়াও গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে ইসরাফিল ও সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে জিএম আহসানুল্লাহকে অপহরণ করা হয় এবং নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়। মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গাড়িচালক সাইফুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে, অন্যরা ছিল সহযোগী। আসামিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাহাৎ খান জানান, জিএম আহসানুল্লাহ হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সাইফুল, নূর নবী, ইসরাফিল ও সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদের মধ্যে সাইফুল ও নূর নবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জিএম আহসানুল্লাহকে জিম্মি করে গাড়িচালক সাইফুল ৯০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। আরও টাকার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিলেন, না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গাড়িতে করে অনেক জায়গায় ঘুরান সাইফুল। একপর্যায়ে উত্তরার ঘটনাস্থলে জিএম আহসানুল্লাহের লাশ ফেলে যায়।