সিরিয়ার নতুন প্রশাসন সোমবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগতদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান সমাপ্ত করেছে। এর আগে দেশটিতে ভয়াবহ সহিংসতায় ১ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।
নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি : সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হাসান আবদুল ঘানি জানিয়েছেন, লাতাকিয়া ও তারতুস প্রদেশে ‘নিরাপত্তা হুমকি ও পুরনো শাসনযন্ত্রের অবশিষ্টাংশ’ দমনে পরিচালিত সামরিক অভিযান সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্র্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটিকে নতুন করে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এক ভাষণে তিনি বলেন, সিরিয়া কোনো বিদেশি শক্তি বা দেশীয় গোষ্ঠীকে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেবে না। তিনি আরও বলেন, যারা নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এএফপি
সহিংসতার ভয়াবহতা : বৃহস্পতিবার সিরিয়ার নতুন নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আসাদপন্থি গোষ্ঠীগুলোর হামলার পর থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়। সিরিয়ান অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ২৩১ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ২৫০ জন আসাদপন্থি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে সিরিয়ার নতুন প্রশাসন হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।
আশঙ্কা ও আতঙ্কের পরিবেশ : লাতাকিয়া প্রদেশের জাবলেহ শহরের এক বাসিন্দা নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, আমার পরিবার ও বন্ধুদের ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে লাশ সংগ্রহ করে গণকবরে দাফন করা হয়েছে। একইভাবে, লাতাকিয়ার ২২ বছর বয়সি এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারাহ জানান, গত পাঁচ দিন ধরে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সন্ধ্যার পরপরই রাস্তা একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। পুরো শহর যেন ভূতের নগরীতে পরিণত হয়। এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, লাতাকিয়া থেকে জাবলেহ পর্যন্ত রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা, শুধু সামরিক যান ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করছে। সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক গাড়ি রাস্তার পাশে পড়ে আছে।
সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক : সহিংসতায় শুধু আলাউইত সম্প্রদায়ই নয়, খ্রিস্টানরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। রবিবার দামেস্কের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্ক জন এক্স বলেন, এই হামলায় বহু নিরীহ খ্রিস্টানও নিহত হয়েছে।
লাতাকিয়ার ৪২ বছর বয়সি খ্রিস্টান আইনজীবী মিশেল খুরি বলেন, আমরা সবাই বিপদের মুখে। এটা শুধু আলাউইতদের বিষয় নয়, বরং সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ আতঙ্কিত। আমাদের কেউ রক্ষা করতে আসবে না, আমাদের নিজেদেরই নিজেদের রক্ষা করতে হবে। -এএফপি