ইন্দোনেশিয়ায় প্রচণ্ড ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় মালুকু প্রদেশে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)-এর তথ্যানুসারে, গতকাল ভোরে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার অগভীর ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় মালুকু প্রদেশে আঘাত হেনেছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু এবং ভূপদার্থবিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, গতকাল স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪২ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এ কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল মালুকু তেঙ্গা রিজেন্সি থেকে ৬৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার জরুরি ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্যান্ডি লুহুলিমা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে কোনো গুরুতর প্রভাব পড়েনি এবং কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। -আনাদোলু
উল্লেখ্য, এশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপদেশ ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যা সাড়ে ২৭ কোটির বেশি।-আনাদোলু
ভূতাত্ত্বিক অবস্থার কারণে নিয়মিতই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। ২০০৯ সালে দেশটির পাদাংয়ে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। সে সময় প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হয় আরও অনেকে। এ ছাড়া ভূমিকম্পে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে যায়। তারও আগে ২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভয়াবহ একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের পরপর আঘাত হানে সুনামি। তখন ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের তথাকথিত ‘রিং অব ফায়ারে’ ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা দেখা যায়। এখানে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ঘটে। অবশ্য শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, জাপানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব দেশই এ কারণে ভূমিকম্পের অত্যধিক ঝুঁকিতে আছে।