আগামী বছর ৫ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত শুনানির তারিখ ছিল। এমন এক রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিকেও ৪ মার্চ নিউইয়র্ক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কামরুল হাসান নামক ঐ বাংলাদেশিকে ফোন করে ম্যানহাটানের আইসের (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এ্যানফোর্সমেন্ট) অফিসে যেতে বলা হয়েছিল। সেখানে গেলেই তাকে আটক করা হয়।
যদিও বলা হয়েছে যে, গুরুতর অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদেরকে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে। নোয়াখালীর চাটখিলের সন্তান হাসান ২৮ লাখের অধিক টাকা দালালকে দিয়ে বহুদেশ ঘুরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছর তিনেক আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার পর ওয়ার্ক পারমিটও পেয়েছেন অর্থাৎ কোনভাবেই অবৈধ অভিবাসীর পর্যায়ে ছিলেন না। তবুও কেন তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটলো? এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের ডাইরেক্টর এবং ডেমক্র্যাটিক পার্র্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী ৫ মার্চ এ সংবাদদাতাকে জানান, আবেদন পেন্ডিং থাকাবস্থায় গ্রেতারের ঘটনাটি সত্যি দুঃখজনক এবং উদ্বেগের। অর্থাৎ এখোন গ্রিনকার্ডধারী, এমনকি সিটিজেনশিপ থাকা লোকজনকেও সবসময় আইডি সাথে রাখা জরুরি। এছাড়া, যারা গ্রেফতারের পর বন্ডে জামিন পেয়েছেন তাদের জামিনের শর্তগুলি মেনে চলা উচিত। কামরুল হাসানের ব্যাপারটি অনেকের জন্যে শিক্ষনীয় হতে পারে।
এটর্নি মঈন আরো উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর যে কার্যক্রম চলছে তার টার্গেট হবার আশংকা থাকা প্রবাসীদের প্রতি আবারও অনুরোধ রাখছি তারা যেন নিজ নিজ এটর্নীর পরামর্শ অনুযায়ী চলাফেরা করেন। সিটি, স্টেট অথবা ফডারেলের আইন লংঘিত হতে পারে এমন কোন কাজ/কথা না বলাই শ্রেয়। আইস কিংবা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা বয়ান অথবা ডকুমেন্ট সাবমিট করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ওয়াশিংটন মেট্র এলাকা থেকে ২১ জানুয়ারির পর অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশীকে গ্রেফতারের সংবাদ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন স্টুডেন্টও রয়েছেন। তারা স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করায় তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। আইসের কাছে থেকে দেশভিত্তিক গ্রেফতারের তথ্য এখোন পর্যন্ত দেয়া হয়নি। আইসের তথ্য অনুযায়ী বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্পের সাড়ে ৫ সপ্তাহে ৮৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া, উপরোক্ত সময়ে গ্রেফতার অভিযানের সময় বাসা-ব্যবসা-চলতি পথ থেকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে ১৭ হাজার। বাইডেন আমল থেকে ডিটেনশনে থাকাসহ বর্তমান আমলে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্পের এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৬০জন। অর্থাৎ নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর টার্গেটের সিকি ভাগেও পৌঁছা সম্ভব হয়নি।
এহেন অবস্থায় হোয়াইট হাউজের অনুরোধে গত মাসে কংগ্রেসে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিল পাশ হয়েছে। এ অর্থ ইমিগ্রেশন বিভাগ ছাড়াও ব্যয় করতে হবে প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানী খাতে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল