দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা পা ঝুলিয়ে রাখলে দুটো পা ফুলে যেতে পারে, বিশ্রাম নিলে ফোলা কমে যায়। বিশ্রামে থাকা অবস্থায় যদি পা ফুলে যায় সেটাকে ইডিমা বলা হয়। মানবদেহের টিস্যু বা কলায় অতিরিক্ত পানি জমা হলে ইডেমা হয়। বহু জটিল রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। দুটো পা যখন একসঙ্গে ফুলে যায় এবং আঙুল দিয়ে চাপ দিলে যদি গর্ত হয়ে যায় তাহলে নিচের রোগগুলোর কথা চিন্তা করতে হবে।
১. ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া : কিছু উচ্চ রক্তচাপের ও ব্যথার ওষুধ, স্ট্যারয়েড, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ইত্যাদি কারণ হতে পারে।
২. অন্তঃসত্ত্বা নারী তৃতীয় ধাপে : শেষ তিন মাস পা ফোলা খুবই স্বাভাবিক, এক্ষেত্রে ব্লাড প্রেসার ও প্রস্রাবে এলবুমিন পরীক্ষা জরুরি।
৩. কিডনি রোগের কারণে পা ফোলা : প্রথমে মুখ ফুলে যায় তারপর শরীর ফুলে নেফ্রাইটিস রোগ প্রস্রাবের রং ঘন সরিষার তেলের মতো, কম প্রস্রাব ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। নেফ্রোটিক সিনড্রোম পুরো শরীর ফুলে যায় এবং প্রস্রাবে অত্যধিক এলবুমিন বের হয়, ফলে প্রস্রাব ফেনা ফেনা হয়। কিডনি বিকল হলে প্রথমে মুখে, পরে পায়ে ও বুকে পানি আসে। এসব রোগীর রাতে বেশি বেশি প্রস্রাব, বমি বমি লাগা, খাবারে অরুচি দেখা দেয়।
৪. হার্ট ফেইলুর : উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত, হৃদযন্ত্রের ভাল্বের সমস্যা হলে, হার্টের মাংসপেশি দুর্বল হলে হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যায়, ফলে পায়ে, পেটে, বুকে পানি আসে।
৫. লিভারের অসুখ : লিভার সিরোসিস হলে প্রথমে পেটে, পরে পায়ে ও বুকে পানি জমে। হেপাটাইটিস ভাইরাস বি ও সি, মদ্যপান, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে লিভার সিরোসিস হয়।
৬. অপুষ্টি : পরিমিত খাবার না খেলে, হজম না হলে, খাদ্যনালি থেকে আমিষ বের হয়ে যায় রক্তে এলবুমিন কমে যায়, ফলে শরীরে পানি জমে।
দুই পা ফোলা কিন্তু আঙুল দিয়ে চাপ দিলে গর্ত হয় না। এর অন্যতম কারণ-
১. হাইপোথাইরয়েডিজম : থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ কমে গেলে মুখ ও পা ফোলা, দুর্বলতা, গলার স্বর পরিবর্তন অন্যতম লক্ষণ। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে গলগ-, শীত শীত লাগা, মোটা হয়ে যাওয়া, মাসিকের রক্ত বেশি যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া ইত্যাদি।
এক পা ফুলে গেলে
১. গভীর শিরায় রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধা : হঠাৎ ব্যথার সঙ্গে পা ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া ডিভিটির মূল লক্ষণ। দীর্ঘমেয়াদি শয্যাশায়ী রোগী, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী, যে কোনো বড় অপারেশনের পর যেমন- হাঁটু প্রতিস্থাপন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন ইত্যাদি প্রধান কারণ।
২. ত্বকের সংক্রমণ : সেলুলাইটিস টিস্যুতে সংক্রমণ হলে পা ফুলতে পারে। আক্রান্ত স্থানের রং লাল এবং হাত দিলে গরম অনুভূত হবে। পা ফুলে যাওয়া কিন্তু বহু জটিল রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ।
চিকিৎসা :
পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমানো। খাদ্যে পানি ও লবণের পরিমাণ কম খাওয়া। অধিক-ওজনের কারণে ফুলে গেলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম করতে হবে। লিভার কিডনি ও হার্টের সমস্যা হলে বেশি ডোজে ডাইউরেটিকস দিতে হবে, পানি ও সোডিয়ামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হাইপোথাইরয়েড হলে হরমোন রিপ্লেস করতে হবে। গভীর শিরা রক্তনালি ব্লক হলে অ্যান্টিকোগুলেন্ট ওষুধ দিতে হবে। টিস্যুতে সংক্রমণ হলে- অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। তাই এসব বিষয়েও আমাদের সবাইকে যত্নবান হতে হবে।
লেখক: মেডিসিন বিভাগ, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ