পাঁচটি সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে নিজেদের মতামত দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ মতামতে দলটি সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। ঐকমত্য কমিশনের কাছে স্প্রেডশিটে মতামত জমা দেওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে মতামত জমা দেয় জামায়াতে ইমলামী।
জামায়াত সুচিন্তিত মতামত দিয়েছে জানিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী সুচিন্তিত মতামত দেওয়ার চেষ্টা করেছে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দফায় দফায় আলোচনা করে লিখিত মতামত দেওয়া হয়েছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের বিষয়ে জামায়াত একমত হলেও কিছু বক্তব্য দলটি দিয়েছে বলে জানান তিনি। বিভাগীয় পর্যায়ে হাই কোর্ট স্থাপনের পক্ষে জামায়াত মত দিয়েছে বলে জানান সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, লাখ লাখ মামলা পেন্ডিং হয়ে আছে। জনগণ বিচার পাচ্ছে না। নির্বাচনের দিন, মাস, ঘণ্টা জামায়াত বেঁধে দেয়নি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সময়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচনটা নিরপেক্ষ করা। যৌক্তিক সময় দিতে প্রস্তুত জামায়াত। জামায়াত বিদ্যমান সংসদেই সংবিধানের পরিবর্তন চায় বলে জানান তিনি। রাষ্ট্র সংস্কারে গত বছর সংবিধান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন, দুর্নীতি, জনপ্রশাসন ও পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করে সরকার। কমিশনগুলো ফেব্রুয়ারির শুরুতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।
কমিশন পুলিশ সংস্কার কমিশন বাদে বাকি পাঁচটি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের বিষয়ে মতামত নিতে ১৬৬টি প্রশ্নের স্প্রেডশিট পাঠায় ৩৮টি দলের কাছে। জামায়াত, এলডিপিসহ ১৬টি দল তাদের মতামত পাঠায় এখন পর্যন্ত।