গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সারা দিনে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়ে শিশুসহ ৪০৪ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর রাতেও বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। গতকাল ভোরেও এ হামলা চলেছে। এতে আরও ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি
খবরে বলা হয়, গতকাল ভোররাতে ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস, রাফাহ এবং উত্তরের গাজা সিটির সাবরা এলাকা। বাস্তুচ্যুত মানুষের থাকার তাঁবুতে এ হামলা চালানো হয়। এতে এক মা ও তার শিশু নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে দাবি করা হয়, উত্তর গাজায় রাতভর তারা হামাসের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মধ্য গাজার ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, দির আল-বালাহ এলাকায় মসজিদের কাছে একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল বুরেজ শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে ইসরায়েলি হেলিকপ্টার থেকে গোলাবর্ষণ ও আর্টিলারি শেলিং করা হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের অবরোধ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে হামলার পর গাজাবাসী ভীত, অসহায় ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তাদের কাছে খাবারের কোনো সংস্থান নেই। ৫ লাখ ফিলিস্তিনির জন্য পানি সরবরাহ করা একটি ডিস্যালিনেশন প্লান্ট ইসরায়েলের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলার মুখে ঘুম থেকে জেগে উঠছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় পুনরায় বোমাবর্ষণ শুধু শুরু মাত্র এবং হামাসকে ধ্বংস ও জিম্মিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত ইসরায়েল তার যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবে।
হামলার নিন্দা : জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তিনি গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ক্ষুব্ধ। চীনের ইউরোপীয় দূত ফু কং যুদ্ধবিরতি অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের পরও যে ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে আফসোস প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার পর এ সরকারের ‘কোনো সীমারেখা নেই’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ছাড়া গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর ভয়াবহ হামলার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীরা। গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা। প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ এবং গাজা-পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারির অবসানের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে তারা।