স্বৈরাচার পতনের আট মাস হতে চলল। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো নৈতিক মনোবল এবং পেশাদারি দৃঢ়তা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সেজন্যই সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মাঠে রাখতে হচ্ছে, যা তাদের কাজ নয়। এ সুযোগটাই নিচ্ছে পেশাদার ও সুযোগসন্ধানী অপরাধী চক্র। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা পরিচয়ে, বিভিন্ন অপকৌশলে তারা চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানি চালিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশেই কমবেশি এসব ঘটনা ঘটছে। বুধবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এমন এক দুঃসাহসিক ডাকাতি হয়েছে। র্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট, ছাত্র প্রতিনিধি ও সাংবাদিক পরিচয়ে প্রায় ২০ জনের একটি দল একজন জুয়েলার্স মালিকের বাড়িতে ঢোকে। বাড়ির বিভিন্ন তলায় লুটপাট চালিয়ে তারা অন্তত ৩৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। ভুয়া অভিযানের বিষয় টের পেয়ে বাসার বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ উপস্থিত হতে না হতেই ডাকাত দলের অধিকাংশ পালিয়ে যায়। তবে পাশে নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকরা চার ডাকাতকে ধরে ফেলেন। পরদিন ডিএমপির মিডিয়া শাখা সংবাদ সম্মেলন করে এসব জানায়। ‘চোর পালানোর পর বুদ্ধি বাড়ে’ প্রবচন মনে করিয়ে দিয়ে পুলিশ এখন এ ঘটনার তদন্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার অভিযান ইত্যাদি পরিচালনা করবে। যেমনটা সব সময়ই হয় এবং অধিকাংশ সময়ই যার কোনো কূলকিনারা হয় না। এ ভাবমূর্তিই জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা হারানোর অন্যতম কারণ। তবে আশার বিষয় যে, অতি সম্প্রতি দু-এক জন পুলিশ সদস্যের সাহসী ও মানবিক আচরণ এ বাহিনীর প্রতি মানুষের ধারণা পাল্টাতে ভূমিকা রাখছে। আমরা এ ধারার গতিশীল সম্প্রসারণ কামনা করি। অত্যাসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে এবার দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। ব্যাংক-বিমা এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও বড় ছুটি পাচ্ছেন। স্বভাবতই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মহানগর, শহর বন্দর থেকে কোটি কোটি মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি যাবেন। দিনে-রাতে তারা ছুটবেন। শহরে তাদের অনেকেরই বাসাবাড়ি ফাঁকা, তালাবদ্ধ থাকবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জাতীয় মহাসড়কগুলো এবং শহর-বন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। তাদের নিশ্চয়ই সে প্রস্তুতি থাকবে। তবে জনসাধারণেরও মনে রাখা উচিত, সীমিত জনবলে ১৮ কোটি মানুষের দেশে সবার জানমালের সুরক্ষা দেওয়া শক্ত। ফলে পাড়ামহল্লায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে কিংবা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের বিষয়ও ভাবতে হবে। পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি, নানা মতলবে ঘটনা দুর্ঘটনা ঘটাতে বিশেষ মহলও ওত পেতে থাকতে পারে। পানি ঘোলা করে মাছ ধরার তৎপরতা থাকতে পারে। ফলে ঘরে-বাইরে, পোশাকে, সাদা পোশাকে সব বাহিনী এবং জনসাধারণের বিশেষ সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।