সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে লিচুর মুকুল ও গুটির সমারোহ। চারদিকে ম ম গন্ধ। কোনো কোনো গাছে মুকুল থাকলেও বেশির ভাগেই গুটি এসে গেছে। যা দেখে লিচু চাষি এবং বাগান ক্রেতারা খুশিই ছিলেন। চৈত্র মাসের শেষদিকে গাছগুলোতে গুটি আসতে শুরু করে। কিন্তু বৈশাখের শুরু থেকে দাবদাহ আর টানা অনাবৃষ্টির কারণে পুড়েছে গাছের মুকুল। এখন বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে লিচুর গুটি। টানা অনাবৃষ্টি আর মৃদু তাপপ্রবাহে এ অবস্থা হয়েছে। প্রথম অবস্থায় গাছে মুকুলের সমারোহ দেখে আশান্বিত হলেও এখন লিচুর ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনাজপুরের লিচু চাষিরা।
স্থানীয়রা বলছেন, দিনাজপুরে বাগানে, প্রতিটি বসতভিটায় বা আঙিনায় গাছে থোকায় থোকায় লিচুর গুটি ঝুলছে। চাষিরা বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে গতবারের চেয়ে ফলন কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
দিনাজপুরের লিচু মানে মিষ্টি ও রসালো স্বাদ। বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি আর দেশি লিচুর গুটিতে নুইয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। এবারও ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
উদ্ভিদবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করা, সফল মৌ-খামারি মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, লিচু চাষের এলাকা দিনাজপুর। এ বছর বোম্বাই জাতের লিচু গাছে মুকুলের পরিবর্তে অধিকাংশ গাছে পাতা এসেছে। এ ছাড়া মুকুল অবস্থায় বৃষ্টিতে ফুল ঝরে পড়েছে। তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধিতে পুষ্পমঞ্জুরিতে আসা লিচুর গুটি ঝরে পড়ার আশঙ্কা আছে। ফলে এ বছর লিচুর ফলন আশঙ্কাজনক হারে কম হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পুলহাট-মাসিমপুরের আসাদুজ্জামান লিটন বলেন, দিনাজপুরের দক্ষিণ কোতোয়ালি ও মাসিমপুরসহ আশপাশে কিছু এলাকায় ভিটা, জমি, বসতবাড়িতে লাগানো গাছেই লিচু আবাদ সীমিত ছিল। এখন এর বিস্তৃতি ব্যাপক।
বিরলের সফিকুল ইসলাম জানান, একটি বড় গাছে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত এবং সবচেয়ে ছোট গাছে ১ থেকে দেড় হাজার লিচু পাওয়া যায়। এখন লিচুর গুটি এসেছে। এক মাস পরই পাকা টসটসে লিচু বাজারে উঠবে। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর লিচু চাষে জমির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৪৮৯ হেক্টর। জেলায় লিচু বাগানের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি। বাগান ছাড়াও কিছু বাড়ি, বাড়িসংলগ্ন ভিটা জমিতে ২-৪টি করে লিচু গাছ রয়েছে। প্রায় ১৩ উপজেলায় লিচু চাষ হলেও সদর ও বিরল উপজেলার লিচুর চাষ বেশি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া বিবেচনায় কোনো অবস্থাতে দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকা অবস্থায় গাছে পানি দেওয়া বা স্প্রে করা যাবে না। সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা কমে গেলে গাছে স্প্রে করে পানি ছিটাতে হবে, কীটনাশক দিতে হবে। সেই সঙ্গে গাছে কিছু অনুখাদ্য দিলে সুফল পাওয়া যাবে।