আহরণ মৌসুমের শেষ মুহূর্তে এসে দুর্যোগে পড়েছেন সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের শুঁটকিপল্লির জেলেরা। হঠাৎ উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। শুক্রবার থেকে সাগর অশান্ত থাকায় টানা ছয়দিন ধরে মাছ আহরণ করতে পারছে না জেলেরা। শুঁটকি উৎপাদনকারী সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় কয়েক হাজার নৌকা ও ট্রলার শুঁটকিপল্লির ঘাটে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। সাগরপানে তাকিয়ে অলস সময় পার করছেন হাজার হাজার জেলে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন জেলে, মহাজন ও আড়তদাররা। সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল শুঁটকিপল্লি থেকে গতকাল রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিন ফরাজী মোবাইলে জানান, ছয়দিন ধরে সাগরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। সাগরে যেতে পারছে না শুঁটকিপল্লির জেলেরা। মাছ ধরতে না পারলে সবই মহাজনের লোকসানের খাতায় চলে যাবে।
সুন্দবনের দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, ৮ এপ্রিল শেষ হবে সুন্দরবনের পাঁচ মাসের শুঁটকি মৌসুম। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই কয়েক দফা দুর্যোগ, বনদস্যু-ডাকাতের উৎপাত ও মুক্তিপণের দাবিতে জেলে অপহরণের ঘটনায় সাগরে নামতে পারেননি জেলেরা। বনদস্যুদের ভয়ে বহু ব্যবসায়ী চর ছেড়ে চলে গেছেন। অপহরণের ভয়ে পালিয়ে গেছেন শত শত জেলে। এ বছর লাভ তো দূরের কথা চালান বাঁচবে না অধিকাংশ ব্যবসায়ীর। শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, এ বছর একের পর এক দুর্যোগে পড়ে সর্বশান্ত শুঁটকির সঙ্গে জড়িত জেলে-মহাজনরা। এ মৌসুমে শুঁটকি খাত থেকে বন বিভাগের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।