পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি রাজবাড়ীসহ তিন জেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ। জেলার পাংশা উপজেলার নাদুরিয়া ঘাট এলাকায় এ সেতু নির্মাণকাজে ইতোমধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ে শুধু পিলার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ শুরুই হয়নি এখনো। এখানে সেতু না থাকায় এ এলাকার মানুষকে যাতায়াতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী পাংশা উপজেলার নাদুরিয়া, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ ও মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার জিসি সড়ক স্পর্শ করেছে গড়াই নদী। তিন জেলার মানুষের যোগাযোগসুবিধার জন্য গড়াই নদীর ওপর ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৩ জুন। সেতুর কাজ দ্রুত শেষ হলে রাজবাড়ী জেলা থেকে সাত জেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে উন্মোচন হবে নতুন দিগন্ত। সেই সঙ্গে যাতায়াতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। রাজবাড়ীর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লি সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (সিআইবিআরআর) আওতায় এখানে ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭০ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণকাজ বরাদ্দ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলমের (জেভি) এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রথম দফায় ২০২৩ সালের ৩ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
সরেজমিনে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের নাদুরিয়া ঘাটের ব্রিজ এলাকায় দেখা যায় নির্মাণকাজ চলছে ঢিলেঢালাভাবে। বড় ব্রিজ নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নেই সেখানে। খুঁটির কাজ শেষ হয়েছে। তবে খুঁটির ওপর ৫টি স্প্যান বসাতে বাকি রয়েছে। স্প্যান বসানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুইটি গার্ডার। বাকি তিনটি গার্ডার বসানোর কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি। জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে স্থানীয়রা বলেন, ২০২৩ সালের দিকে একবার জমি অধিগ্রহণের জন্য কথাবার্তা বলেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ভূমি অফিসের লোকজন। নতুন করে আবার জমি অধিগ্রহণের কথা শোনা যাচ্ছে।
সেতু নির্মাণকাজের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। কাজের বিষয়ে তারা বলেন, ২০২০ সালে সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালে এসে সেতু নির্মাণকাজ শেষ করেতে পারেনি সরকার। বেশির ভাগ সময় এখানে ৭ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এভাবে এত বড় সেতু নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ তো শুরুই হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কে. এম. ইয়াহিয়া দাবি করেন ব্রিজ নির্মাণের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ করায় বাকি কাজ করা হচ্ছে না। পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আবু দারদা বলেন, সেতু নির্মাণকাজ নিয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। এ নির্মাণকাজের সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণে কিছু জটিলতা রয়েছে। সেসব নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, সেতু নির্মাণকাজে ধীরগতি ছিল এটা সঠিক। এখন নির্মাণকাজে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের একটি ব্যাপার রয়েছে। সেটি শেষ হলে কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।