হিমাগারে আলু সংরক্ষণ নিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন জয়পুরহাটের কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, গত বছরের চেয়ে হিমাগার ভাড়া বাড়ানো হলেও আলু সংরক্ষণের কার্ড (অনুমতিপত্র) তারা চাহিদামতো পাচ্ছেন না। অধিকাংশ হিমাগারে আলু রাখছেন ব্যবসায়ীরা। আবার কার্ড পাওয়ার পরও হিমাগার গেটে আলু নিয়ে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন।
হিমাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, হিমাগারে রাখা আলুতে লাভ বেশি হওয়ায় এবার কৃষকরা বীজের পাশাপাশি বিক্রির উদ্দেশ্যে আলু সংরক্ষণে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে আলু সংরক্ষণে হিমাগারে চাপ বেড়েছে কৃষকদের। যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দিনে যেখানে হিমাগারে ১০ হাজার বস্তা আলু নেওয়া সম্ভব, সেখানে কৃষকরা নিয়ে আসছেন ২০ থেকে ২৫ হাজার বস্তারও বেশি। ফলে হিমাগার গেটে যানবাহনের জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার আলু চাষ হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে। যা থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন। তবে অনুকূল আবহাওয়ায় ১০ লাখ মেট্রিক টনেরও অধিক আলু উৎপাদনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ। জেলার ১৯টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ক্ষমতা ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। যেখানে কৃষকদের পাশাপাশি আলু সংরক্ষণ করেন ব্যবসায়ীরা। বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এবার সংরক্ষণে ঝুঁকে পড়েছেন। সেই সুযোগে এবার আলু সংরক্ষণ ভাড়াও বাড়িয়েছেন হিমাগার মালিকরা। গত বছর প্রতি কেজি আলুর ভাড়া যেখানে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ ৬ টাকা, এবার সেখানে নেওয়া হচ্ছে ৮ টাকা। তার পরও আলু সংরক্ষণে চাহিদামতো হিমাগারের অনুমতিপত্র (কার্ড) না পাওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকরা।
জয়পুরহাট সদরের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১০০ বস্তা আলু রাখার জন্য তিন দিন ধরে অপেক্ষা করেও ক্ষেতলালের বটতলীতে হিমাগারে আলু রাখা সম্ভব হয়নি। হিমাগারের গেটের সামনে ট্রাক, ট্রলি ও ভ্যানে শত শত বস্তা আলু নিয়ে অপেক্ষা করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গেট খুলছে না। কখন নেওয়া হবে তা-ও জানি না।
ক্ষেতলালের বটতলী হিমাদ্রী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, কৃষকদের অভিযোগ সঠিক নয়। দুই বছর ধরে লাভ হওয়ায় কৃষকরা এবার বেশি আলু সংরক্ষণ করছেন। ফলে হিমাগারে চাপ বেড়েছে। যা সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৬০ ভাগ কৃষক এবং ৪০ ভাগ ব্যবসায়ীদের আলু হিমাগারে সংরক্ষণের সরকারি নিয়ম থাকলেও হিমাগারে ৮০ ভাগ কৃষকের আলু সংরক্ষণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। কালাই উপজেলার পুনট হিমাগারের সহকারী ব্যবস্থাপক এনামুল হক বলেন, গত বছর প্রতি কেজি আলুর হিমাগার ভাড়া ৬ টাকা ছিল। এবার ব্যাংক সুদ ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ৮ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন। ভাড়া বেশি হলেও লাভ বেশি পেয়ে এবার আলু সংরক্ষণে কৃষকরা বেশি ঝুঁকেছেন। ফলে প্রতিটি হিমাগারেই আলু সংরক্ষণ চাহিদা বেড়েছে; যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মোলামগাড়ী নর্থপোল কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সব সময় হিমাগার ভাড়া কম নেওয়ায় এ নিয়ে কৃষকদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে ধারণক্ষমতার বাইরে তো আমাদের কিছুই করার নেই। জেলা কৃষি বিপণন বিভাগের বাজার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা রতন কুমার রায় বলেন, প্রতি কেজি আলুর হিমাগার ভাড়া পৌনে সাত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া হিমাগারগুলোতে কৃষকদের আলু সংরক্ষণে হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবেই বিষয়গুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।