চলতি মৌসুমে ভোলায় শত শত একর জমির বোরো ধানে চিটা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষক এখন দিশাহারা। ঋণ ও ধারদেনা করে বোরো আবাদ করেছিলেন অনেকে। ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটাবেন কীভাবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ওই কৃষকরা নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে বোরো আবাদ করেছিলেন। যথাযথ আলো এবং তাপমাত্রার অভাবে পরাগায়ণ ব্যাহত হয়েছে। এজন্য সব ধানে চিটা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় এনে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করা হবে। ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের আলগি, গুলি, নাসিরমাঝিসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। মাঠের পর মাঠ ধান। দূর থেকে দেখে মনে হয় আর কিছুদিন পর হয়তো পাকা ধান ঘরে তুলবেন চাষিরা। কিন্তু না। কাছে গেলে দেখা যায় ধানের সব ছড়াই নষ্ট হয়েছে। সব ধানেই চিটা হয়েছে। তাই কেউ গরুর খাদ্য হিসেবে কেটে নিচ্ছেন এসব ধান। ধনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক জয়নাল মিয়া, আবদুল খালেক জানান, গত বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ, অতি বৃষ্টি আর জোয়ারে আমন আবাদ ব্যাহত হয়। নষ্ট হয়ে যায় আমন বীজতলা। দুই তিনবার ধান রোপণ করেও তা রক্ষা করতে পারেননি তারা। আমন আবাদ করতে না পারায় অনেক জমি খালি পড়েছিল। ওই সব জমিতে অনেক কৃষক আগাম বোরো ধান লাগিয়েছেন। জমিতে পানি, সার, ওষুধ দেওয়া এবং পরিচর্যা সবকিছুই ঠিক ছিল। ধানের ছড়াও বের হয় চমৎকার। কিন্তু সব ধানে চিটা হয়েছে। দেখে মনে হয় ছড়া বের হতে না হতেই ধান পেকে গেছে। সত্তরোর্র্ধ্ব কৃষক আতিকুল্লাহ জানান, তিনি কৃষি ব্যাংক থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দেড় একর জমিতে আমন করেছিলেন। জোয়ার আর বৃষ্টির পানিতে সব নষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে ওই জমিতে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে বোরো করেছেন। ছড়াও বের হয়। কিন্তু সব ধানে চিটা। এখন তিনি কীভাবে ঋণ শোধ দেবেন, আর কীভাবে সংসার চালাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তার মতো অনেক কৃষক বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ অথবা পরিচিতদের কাছ থেকে ধারদেনা নিয়ে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু সব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশাহারা।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, ফেব্রুয়ারিতে বোরো রোপণ করেছেন চাষিরা। কিন্তু অনেক কৃষক দুই মাস আগে বোরো লাগিয়েছেন। তাদের ধান গাছে ছড়া বের হয়েছে। তবে সব চিটা হয়ে গেছে।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে তিনি মাঠ পরিদর্শন করেছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ক্ষতি পুষিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের প্রণোদনার আওতায় তাদের সহায়তা করা হবে। চলতি মৌসুমে ভোলা সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যথাসময়ে যারা বোরো আবাদ করেছেন তারা আশানুরূপ ফসল পাবেন, আশা করছেন এ কর্মকর্তা। জেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার ডক্টর শামিম আহমেদ বলেন, বিভিন্ন জাতের ধানের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আলো ও তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়। ওই কৃষকরা সময়ের অনেক আগে বোরো আবাদ করেছিলেন। ফলে যথাযথ আলো এবং তাপমাত্রার অভাবে পরাগায়ণ ব্যাহত হয়েছে। এজন্য সব ধান চিটা হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষককে পুনর্বাসনের জন্য সরকারি প্রণোদনার আওতায় সহায়তার চেষ্টা করা হবে।