যমুনা নদীর ওপরে বহুল প্রত্যাশিত আলাদা রেলসেতু চালু হয়ে গেছে। সম্পন্ন হয়েছে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও। ১৯ মার্চ থেকে এ সেতু দিয়ে চলাচলকারী সব ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে, যাতে হোঁচট খেয়েছে নতুন এ সেতু নিয়ে যাত্রীদের বাড়তি আগ্রহ।
যাত্রীরা বলছেন, বর্ধিত এ ভাড়ার ক্ষেত্রে পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের বৈষম্য করা হয়েছে। রাজশাহীর নাগরিক সংগঠকদের দাবি, আলাদা রেলসেতুতে ভাড়া কমার বদলে উল্টো বৃদ্ধির বিষয়টি দুঃখজনক। তবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বলছে, নতুন সেতুর কারণে আগের তুলনায় দূরত্ব বেড়েছে ৩৯ কিলোমিটার। স্টেশন ও সেতু মিলে বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশে রেলের নিয়মানুযায়ীই ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
যাত্রীরা বলছেন, ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী ধূমকেতু, সিল্কসিটি পদ্মা এক্সপ্রেসসহ ১৫টি ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত ভাড়ার ক্ষেত্রে তারা পূর্বাঞ্চলের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলছেন। তারা জানান, ঢাকা-রাজশাহীর ২৫০ কিলোমিটার রেলপথে শোভন চেয়ারে ৪৫০ টাকা আর ননস্টপ ট্রেনে ৪৯৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ পূর্বাঞ্চলে ঢাকা-চট্টগ্রামের ৩২০ কিলোমিটার রেলপথে শোভনে ৪২০ টাকা আর ননস্টপে ৪৫০ টাকা ভাড়া রাখা হয়েছে। শফিকুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, দূরত্ব কম হলেও তাদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রেন তো আগের সময়েই গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, গণশুনানি ছাড়া এ ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার না হলে তারা ঈদের পর আন্দোলনে নামবেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের বিপণন ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ^াস জানান, নতুন সেতু দিয়ে চলাচলে পথ বেড়েছে ৩৯ কিলোমিটার। তাই ৩৯ কিলোমিটারের বর্ধিত ভাড়া যোগ হয়েছে। তার দাবি, তারা স্টেশন ও সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা মিলিয়ে নিয়মানুযায়ী যে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় ভাড়া নির্ধারণ করে থাকেন, সেখানে ঢাকা-চট্টগ্রামের তুলনায় রাজশাহী-ঢাকার দূরত্ব বেশি।