রাজশাহীর মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়া এলাকা। সেখানে একটি বড় পুকুর নানা কৌশলে ভরাট করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী শফিকুল ইসলাম। পুকুর ভরাটের অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার পুকুর আমি ভরাট করছি, কার অনুমতি লাগবে?’ আবার নগরীর আহমদপুর এলাকায় টিনের বেড়া দিয়ে ধীরে ধীরে পুকুর ভরাট করছেন ব্যবসায়ী হাসান আলী। রাতের আঁধারে সেখানে ভরাট চলছে। স্থানীয়রা প্রশাসনকে জানালেও লাভ হয়নি। বিশালাকার পুকুরের অল্প একটু অংশ এখন ভরাট হতে বাকি। একইভাবে নগরীতে এখনো ১০টির বেশি পুকুর ভরাট চলছে। কৌশলে এসব পুকুর ভরাট করছেন প্রভাবশালীরা। যদিও হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত পুকুরও ভরাট করা যাবে না।
রাজশাহীতে পুকুর ভরাট ও দখল নিয়ে ২০১৪ সালে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের’ পক্ষে হাই কোর্টে রিট করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর পুকুর গণনা করে বোয়ালিয়া ভূমি কার্যালয়। খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণসহ মোট ৯৫২টি পুকুরের তালিকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত পুকুর ৪৮টি। বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট রাজশাহী শহরের পুকুরগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। সিটি মেয়র, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও র্যাবকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ভরাট বন্ধ হয়নি।
রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কবির হোসেন জানান, পুকুর ভরাটের খবর পেলেই তারা অভিযানে যান। এ ছাড়াও মামলাও করেছেন। কয়েকজনকে পুকুর ভরাট না করতে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকার জানান, কিছুদিন আগে জোড়া পুকুর নামে একটি পুকুর তারা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছেন। কেউ পুকুর ভরাট করলেও তাকে জরিমানা নয়, আবারও পুকুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার শাস্তি দেওয়া হবে।