রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষি সেক্টর নারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের সমমজুরি নিশ্চিত হয়নি। পুরুষের সমান কাজ করেও নারী হওয়ার কারণে তারা মজুরি পাচ্ছেন অনেক কম। উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১২ লাখ নারী মৌসুমি শ্রমিক মজুরিবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। মোট শ্রমিকের ৪০ শতাংশ নারী হলেও তাদের বঞ্চনা শেষ হচ্ছে না। আইনে শ্রম ঘণ্টা, সমকাজে সমমজুরির কথা বলা থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই।
নারী সংগঠন, কৃষিশ্রমিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটিসহ কয়েকটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ পুরুষ শ্রমিক অভিবাসী। তারা জীবিকার তাগিদে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। পুরুষ শ্রমিকরা বাড়ির বাইরে অবস্থান করায় এ অঞ্চলে প্রতি বছরই নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। নারীরা এখন খেতে কাজ করছেন। নারী শ্রমিকরা খেতে বীজতলা লাগানো, খেত পরির্চযা, জমি নিড়ানি, ফসল ঘরে তোলাসহ সব ধরনের কাজ করছেন। কৃষি সেক্টরের প্রতিটি বিভাগই এখন নারীদের হাতে। কিন্তু মজুরির বেলা পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে তারা অনেক কম পাচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলে এখন চলছে জমি থেকে আলু তোলা এবং বোরো খেত নিড়ানির মৌসুম। সড়ক, মহাসড়কের পাশে দাঁড়ালেই দেখা যাবে শত শত নারী শ্রমিক খেত থেকে আলু তুলতে ব্যস্ত অথবা বোরো খেত পরিচর্যা করছেন। কৃষি সেক্টরে মোট শ্রমিকের ৪০ শতাংশই এখন নারী শ্রমিক। এ সংখ্যা ১২ থেকে ১৫ লাখ হবে। পীরগাছা উপজেলার বড়দরগা এলাকার সাইদুল ইসলম জানান, তার এলাকার নারী শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায় আলু উত্তোলনের কাজ করছেন। অপরদিকে পুরুষ শ্রমিকদের দিনে ৫০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা করে পারিশ্রমিক দিতে হয়। পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিক থাকায় কাজ অনেক সহজ ও সস্তায় হচ্ছে। নারী কৃষিশ্রমিকের অভিযোগ, এলাকার অনেক পুরুষ শ্রমিক কাজের জন্য বিভিন্ন স্থানে চলে যাওয়ায় এ অঞ্চলের নারী শ্রমিকরাই এখন কৃষি কাজ করছে। তারা পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করেও পারিশ্রমিক পাচ্ছে অনেক কম। তারা জানান, নারী দিবস (৮ মার্চ) এলেই তাদের নিয়ে মিছিল-মিটিং হলেও কেউ তাদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে মাথা ঘামায় না।
এদিকে, নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি না দেওয়া প্রসঙ্গে সংগঠক ও আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, নারী শ্রমিক অল্প পারিশ্রমিকে সন্তুষ্ট, কাজে পুরুষদের চেয়ে বেশি মনোযোগী, কাজের সময় অযথা আড্ডা না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এ অঞ্চলে নারী শ্রমিকদের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
আইন কগজে-কলমে থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।