নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজনৈতিক দলগুলোর জমা দেওয়া অডিট রিপোর্টের তথ্য দেয় না। নানা টালবাহানা করে থাকে। তবে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, তথ্য দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন জনগণকে তথ্য না দিলে তা হবে আইনের লঙ্ঘন। রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি খুব জরুরি। তাই রাজনৈতিক দলকেও তথ্য অধিকার আইনের অধীনে আনা উচিত। আইন আরও বিস্তৃত করা দরকার। গতকাল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর মিলনায়তনে ‘তথ্য কমিশনের কার্যকারিতা ও তথ্য অধিকার আইনের সংশোধনী’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ইসিতে যেসব তথ্য থাকে, তার সব দিতে তারা বাধ্য। কেউ কেউ হলফনামা দিতেও গড়িমসি করে। এটা আইনের পরিপন্থি। এ আইনের বাস্তবায়ন নির্ভর করে নাগরিকের ওপর। এর জন্য লড়াই করতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তথ্য কমিশন কার্যকর নেই। আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে এটি কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে। তবে এতে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। একটি দেশে ছয় মাস ধরে কমিশন নেই, এটা বিব্রতকর। এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর বর্তায়। তাদের এর জবাব দিতে হবে। একটা পর্যায়ে দলীয় ক্যাডার দিয়ে কমিশনের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সরকার নিশ্চয়ই তা করবে না।
তথ্য অধিকার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, তথ্য কমিশন অকার্যকর হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, এ সরকারের এটার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। গত ১৫ বছর এটা ব্যবহারে অনীহা দেখা গেছে। এ আইনেরও অতি জরুরি কিছু সংস্কার দরকার।