আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া ছাত্র-জনতা কোথাও কোনো অভিযান চালাতে পারবে না, এটা একমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখতিয়ার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর তোপখানা রোডে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাসাবাড়িতে ঢুকে মব জাস্টিস হচ্ছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করছি না। তবে যেসব স্থানে মব জাস্টিস হচ্ছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছে। কোথাও কোথাও পুলিশের ওপরেও হামলা চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে। মব জাস্টিসের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি জরুরি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুই-একটি স্থানে এমন ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের সড়কে এই ধরনের ঘটনা বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলেও একটু বেশি ঘটছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে, যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি-ছিনতাই হয়, এ ব্যাপারে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার ঈদে যাতে কোথাও চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতা আনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশে ট্যুরিস্টের যেসব স্থান রয়েছে, সে অনুযায়ী পুলিশের সংখ্যা অনেক কম। ট্যুরিস্ট পুলিশ ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের জনবলের অনেক ঘাটতি রয়েছে। তাদের বাসস্থান ও পরিবহনের সংকট রয়েছে। এসব বিষয়ে মতবিনিময় সভায় আলোচনা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের নিজস্ব ভবন দরকার। জনবল ঘাটতিসহ ট্যুরিস্ট পুলিশের সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে এটিকে আরও সক্রিয় করা গেলে পর্যটন খাত তথা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে এটি বড় অবদান রাখবে। ট্যুরিস্ট পুলিশকে আরও সক্রিয় করা গেলে অনেক বেশি-বিদেশি পর্যটক আমাদের দেশে আসবে।
মতবিনিময় সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশপ্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসানসহ ট্যুরিস্ট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।