ছিলেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কুখ্যাত শাহীন আহমেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন। সেই সুবাদে নারী হয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।
আওয়ামী লীগের লাগাতার ১৬-১৭ বছর ক্ষমতার দাপটে তিনিও নিজ এলাকা শুভাঢ্যায় তৈরি করেছিলেন আলাদা বলয়। গত জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে কিছুদিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়া সাথী আলী। তবে তিনি ফিরেছেন আরও ক্ষমতাধর হয়ে অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকার আমলের ইউপি মেম্বার এখন স্বাধীন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান! গত ১১ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র জারি করে সাথী আলীকে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়।
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর সাথী মেম্বারকে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেরানীগঞ্জ উপজেলার প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানান এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিনাত ফৌজিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জুলাই বিপ্লবে আহত আয়াতুল্লাহ সায়মন চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিষয়টি তাদের আরও যাচাই-বাছাই করা দরকার ছিল। আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসন করে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক।
এ বিষয় বৈষম্যবিরোধী কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলনের প্রচার সেলের সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে এ জন্য রক্ত এবং জীবন দিয়েছি। যাদের হাতে ছাত্র-জনতা নির্যাতিত হয়েছে তারাই আবার বিচারক? এ গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান নিয়োগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আশা করি, প্রশাসন তাদের এ ভুল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।’ নবনির্বাচিত গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুটি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।