কর্ণফুলী নদীর ওপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কালুরঘাট সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং রাতে নিরাপদ নৌযান চলাচলের জন্য ব্রিজের নিচে ৬০টি নেভিগেশন লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি উজানে এবং ৩০টি ভাটির দিকে। নেভিগেশন লাইটের মাধ্যমে অন্যরকম নয়নাভিরাম রূপ পেয়েছে শতবর্ষী সেতুটি। কালুরঘাট সেতুটি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল পরিচালনা করে। রাতে নদী দিয়ে চলাচল করে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকারের নৌযান। কিন্তু রাতে নদীতে অন্ধকার থাকা, কুয়াশা, বৈরী আবহাওয়ায় প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া এবং নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা না থাকায় ব্রিজের অবস্থান স্পষ্ট করা যায় না। ফলে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়। এখন নেভিগেশন লাইটগুলো দিয়ে ব্রিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করবে। সঙ্গে নৌযান চালকদের এক ধরনের নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। তাই লাইটগুলো নদীতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাবে এবং বিপদে সতর্কতা দেবে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজটি দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজটির অর্থনৈতিক অবদানও যথেষ্ট। ব্রিজের নিরাপত্তা ও রাতে নৌযান চলাচল নিরাপদ করতে ব্রিজের নিচে ৬০টি নেভিগেশন লাইট স্থাপিত হয়েছে। লাইটগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যেন নৌযানগুলো রাতে, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় বা বৈরী পরিস্থিতিতে ব্রিজের অবস্থান এবং পথ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারে। ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, নেভিগেশন লাইটের উপস্থিতি চালকদের দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সহায়ক। ব্রিজের কাছাকাছি আসার আগেই চালকরা সতর্ক হতে পারে এবং তাদের নৌযান নিরাপদে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।
১৯৩০ সালে কর্ণফুলী সেতু নির্মাণের ৯৫ বছর পর কালুরঘাট এলাকায় ১১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকায় আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রকল্প পরিচালক। তৈরি হচ্ছে ডিটেইল ডিজাইন। আগামী মে-জুন মাস থেকে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শুরুর কথা। এরপর টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে সেতুর মূল কাজ শুরু হবে। সেতুটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের শহরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।