টঙ্গী তুরাগ নদের ওপর বেইলি ব্রিজ স্থাপনের দাবি টঙ্গীবাসীর। ওপরে ১০ লেনের টঙ্গী ওভারপাস। নিচে পড়ে আছে অপসারিত ব্রিজ। বাড়ছে যানবাহন ও যাত্রীর ভোগান্তি। টঙ্গী ও আশপাশ এলাকার অন্যতম পাইকারি বাজার আবদুল্লাহপুর, উত্তরা ও টঙ্গীবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে গাজীপুরগামী ও ঢাকাগামী দুটি নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে আন্দোলনও করছেন ব্যবসায়ীরা। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি পুনর্নির্মিত না হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে লাখ লাখ মানুষের। সাপ্তাহিক হাটের দিন গত রবিবার টঙ্গী বাজারে আসা ক্রেতারা নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে ডুবে যায়। বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসড়কে যান চলাচল চালু হওয়ার পর ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে উড়ালসড়কের নিচে তুরাগ নদের ওপর নির্মিত টঙ্গী আবদুল্লাহপুর বেইলি ব্রিজ অপসারণ করছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েন, ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতারা। বেইলি ব্রিজটি সরিয়ে ফেলা হলে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হবেন। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি না সরিয়ে পুনর্নির্মিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী ও টঙ্গী বাজার ব্যবসায়ীরা। তবে টঙ্গী-আবদুল্লাহপুর এই বেইলি ব্রিজটি না থাকলে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন বিভিন্ন জেলা থেকে এসে আবদুল্লাহপুর নামা টঙ্গী ও গাজীপুরমুখী যাত্রীরা। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, নোয়াগাঁ, সাপাহার, চাঁপাই, কক্সবাজার, কুয়াকাটা বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য পরিবহন বাস কাউন্টার আবদুল্লাহপুর। তাই যাত্রীদের আবদুল্লাহপুর গিয়ে সহজেই গাড়ি পেতে বেইলি ব্রিজটি অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু গাজীপুরগামী উড়াল সড়কে ওঠার প্রবেশ মুখ উত্তরা বিএনএস সেন্টার। অপরদিকে ঢাকাগামী উড়াল সড়কের প্রবেশ মুখ হলো টঙ্গী স্টেশনরোড। তাই আবদুল্লাহপুর, উত্তরা যেতে ও টঙ্গী বাজারে আসতে অত্যাধুনিক দুটি বেইলি ব্রিজের বিকল্প নেই।
এলাকাবাসী জানায়, রাজধানীর সঙ্গে টঙ্গীর একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা এই বেইলি ব্রিজ। নদের ওপর তিনটি বেইলি ব্রিজের মধ্যে গত কয়েক মাস আগে একটি ব্রিজ ভেঙে যায়। বিআরটির পক্ষ থেকে একটি ব্রিজ অপসারণ করা হচ্ছে। আর অপর একটি ব্রিজ দিয়ে লাখো মানুষের যাতায়াত। এ ছাড়া টঙ্গী বাজার এ এলাকার প্রাচীনতম পাইকারি বাজার। এ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও টঙ্গী বাজার ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম কিরণ বলেন, টঙ্গী বাজারে ২৫ হাজারের বেশি ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। বেইলি ব্রিজটি সরিয়ে ফেলা হলে বাজারে ক্রেতারা আসতে পারবে না। আমরা প্রথমে সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলীকে জানিয়েছিলাম। তিনি আমাদের বিআরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে যেতে বলেন। সেখানে গিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। তাই ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ব্রিজের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম শরিফুল আলম বলেন, বিআরটিএ প্রকল্পের অধীনে একটি ও আমাদের (সওজ) এর অধীনে আরও দুটি বেইলি ব্রিজ ছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্ঘটনায় একটি ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি) আমাদের অনুমতি দিলে তুরাগ নদের ওপর স্থায়ীভাবে দুটি বেইলি ব্রিজ স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।