সংযুক্ত আরব আমিরাতে উত্তেজনা ছড়ানোর সব রসদ নিয়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আজ দেখা হচ্ছে ভারত-পাকিস্তানের। রবিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ক্রিকেট বিশ্বের বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই দ্বৈরথ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় ভারতকে এগিয়ে রাখছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।
শক্তির দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত। বাংলাদেশকে হারিয়ে আসর শুরু করেছে রোহিত শর্মার দল। জাসপ্রিত বুমরাহর শূন্যতা বুঝতে দেননি বাকিরা। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে পাকিস্তান। শাহীন আফ্রিদি, নাসিম শাহ, হারিস রউফদের নিয়ে গড়া বোলিং বিভাগও তেমন প্রভাব ফেলতে পারছে না। ২০১৭ সালে এই ভারতকে হারিয়েই পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিতেছিল। প্রথম ম্যাচ হারা পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটা অনেকাংশেই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার। কারণ, ভারত ও নিউজিল্যান্ড এরইমধ্যে একটি করে জয় পেয়েছে।
পাকিস্তানের পিছিয়ে থাকা নিয়ে একমত দলটির সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলীও। তার মতে পাকিস্তানের জয় অঘটন হবে। নিজের দেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাসিত আলী বলেন, ‘আমি যখন মানুষের সঙ্গে কথা বলি, ৮০ শতাংশ মানুষই বলছে ভারত সহজ জয় পাবে। এমনকি আমারও এটাই মনে হয়। পাকিস্তান যদি ভারতকে হারিয়ে দেয়, সেটা হবে অঘটন।’
দুই দেশের লড়াইয়ে সমর্থকদের উন্মাদনা এতটাই বেশি থাকে যে অনেক সময়ই সমর্থকরা টেলিভিশন ভেঙে ফেলেন। ভারতকে ফেবারিট মেনে পাকিস্তানি সমর্থকদের টিভি না ভাঙার অনুরোধও করেছেন বাসিত।
‘যদি ভারতের কাছে পাকিস্তান বাজেভাবেও হারে, তবুও সমর্থকরা এবার টিভি সেট ভাঙবেন না। কারণ, এখানকার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। আমরা শুধু তাদের কথা-বার্তাই শুনতে পাব। ভারত ফেবারিট, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষিক্ত বাসিত আলী। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ইনিংসে করেছিলেন ৪১ রান। পরের ইনিংসেই অবশ্য জানান দিয়েছিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। সেই ইনিংসে করেছিলেন ১০১ রান।
এরপরই সরাসরি ডাক পান পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে। যুব দলের হয়ে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নেমে করেছিলেন ১৮৯ রান। সেই বয়সেই বাসিত আলী তাঁর টেকনিক ও টেস্ট টেম্পারমেন্টের পুরোপুরি জানান দিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা ফেলতেও বেশি সময় নেননি এই ব্যাটসম্যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ২২ বছর বয়সে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। নিজের অভিষেক সিরিজেই পুরো ক্রিকেট দুনিয়াকে নিজের ব্যাটিং জাদুতে মুগ্ধ করেছিলেন বাসিত। প্রথম ম্যাচে ৪৩ বল খেলে করেছিলেন ৩৪ রান। তবে পরের দুই ম্যাচে কোর্টনি ওয়ালশ, কার্টলি অ্যামব্রোস দের যেভাবে খেলেছিলেন তারপর তাঁকে নিয়ে বড় স্বপ্ন না দেখার কোন কারণ ছিল না।
সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৮৬ বলে ৬০ রানের ইনিংস। এরপর ওই সিরিজের শেষ ম্যাচেও হয়েছিলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। তখন থেকেই বাসিতকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা শুরু করে পাকিস্তন। পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন জাভেদ মিয়াঁদাদ হিসেবে ভাবা হয় এই ব্যাটারকে।
১৯৯৬ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই থেমে যায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। তবে এর আগে পাকিস্তানের হয়ে মোট ১৯ টি টেস্ট খেলেছেন। সেখানে ২৬.৮১ গড়ে আছে প্রায় হাজারখানেক রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে সবচেয়ে সফল ছিলেন তিনি। সেই সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজে ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা সব বোলাররা। তখন ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৩ টেস্টে ৫৫.৫০ গড়ে বাসিত আলী করেছিলেন ২২২ রান।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম