৩০ অক্টোবর শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কোনো ম্যাচেই অংশ নেয়নি। ১১৮ দিন পর আজ মাঠে নামছে নারী জাতীয় দল। কোনো প্রতিযোগিতামূলক আসরে নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তারা স্বাগতিক দেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২ মার্চ দুই দেশের দ্বিতীয় ম্যাচ। জাতীয় দল মানেই সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্ডাদের কথা ওঠে। সত্যি বলতে কি তারা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিলেন। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে যেন নতুন বাংলাদেশের দেখা মিলছে। এতদিন জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন সাবিনা খাতুন। তারই যোগ্য নেতৃত্বে ২০২২ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ টানা দুবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। পুরুষরা যা পারেননি তা করে দেখিয়েছেন মেয়েরা। ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
সেই ইতিহাস গড়া জাতীয় দলের ১৮ খেলোয়াড়ই প্রীতি ম্যাচে নেই। সাবিনা খাতুনের বদলে নারী জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছেন আফিদা খন্দকার। ১৮ জনের বদলে জাতীয় দলে বেশকিছু নতুন মুখের দেখা মিলবে। অবশ্য ১৮ জন বাদ পড়ার পেছনে পারফরম্যান্স কোনো ফ্যাক্টর ছিল না।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুতির জন্য যেদিন ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের ডাকা হয়েছিল সেদিনই সাবিনাসহ সাফজয়ী ১৮ ফুটবলারই বেঁকে বসেন। তারা সাংবাদিকদের ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেন, পিটার বাটলার কোচ থাকলে ফুটবলের কোনো কর্মকাণ্ডেই অংশ নেবেন না। এমনকি বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নির্দেশ এক্ষেত্রে মানবে না। তাদের সঙ্গে সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসানের নেতৃত্ব দেওয়া বিশেষ কমিটি বৈঠক করেছে। সভাপতি নিজে বুঝিয়েছেন তারপরও সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেননি। যখন প্রত্যাহার করল জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও ছিল না।
১৮ ফুটবলারের সুনাম খ্যাতি কারও অজানা নয়। তাদের ছাড়াই বাংলাদেশ মাঠে নামছে। তাও আবার দুবাইয়ের মাটিতে। তবে নতুন অধিনায়ক আফিদা খন্দকার এ নিয়ে মোটেই বিচলিত নন। ঢাকা ছাড়ার আগে দৃঢ় কণ্ঠে বলে গেছেন, ‘কোনো কাজই কারও জন্য থেমে থাকে না। ১৮ জনের মধ্যে কয়েকজন উঁচু মানের খেলোয়াড়। এখন তারা যদি না খেলেন কিছু তো করার নেই। আমি কারও অভাব অনুভব করছি না। আমার চোখ ম্যাচের দিকে।’ নতুন অধিনায়ক আত্মবিশ্বাসী। কোচও বলেছেন জুনিয়রদের ওপর আস্থা রয়েছে। দেখা যাক এ নতুন বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ কী করে।