নিহত সাইফুল সরদার ছিলেন মাদারীপুরের খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এই পদ ব্যবহার করে এলাকায় হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য। নিজের চাচা হোসেন সরদারকে গত বছর হাতুড়িপেটা করে পঙ্গু করে দেন। হোসেন সরদারও ছিলেন আওয়ামী লীগের লোক। সরকার পতনের পর বালু সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে সাইফুল বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। স্থানীয় হাটের ইজারা নেন সাইফুল।
এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে হোসেন সরদার প্রতিশোধ নিতে সাইফুলের প্রতিপক্ষদের সংঘবদ্ধ করে শনিবার দুপুরে তার ওপর হামলা চালায়। এতে সাইফুলসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে মাদারীপুর সদর থানায় সাইফুলের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে হোসেন সরদারকে প্রধান আসামি করে ৪৯ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি বালু ব্যবসা ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই ঘটেছে। এ মামলার ভিকটিম সাইফুল তার চাচা হোসেন সরদারকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন। সেই ঘটনায় মামলা হলে জেলা পুলিশ সাইফুলকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় সাইফুলের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মূলত বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় দুই ভাগে বিভক্ত ছিল জেলা আওয়ামী। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিতেন সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিতেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম। সাইফুল বাহাউদ্দীন নাসিম সমর্থিত খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আর তার প্রতিপক্ষ অভিযুক্ত হোসেন সরদার (৬০) শাজাহান খান সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেট ও খোয়াজপুর-টেকেরহাট বাজারের ইজারা দখল নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।