সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে একজন কৌশলে পালিয়ে এলেও অপহরণের ৪০ ঘণ্টা পরও লামার বিভিন্ন রাবার বাগান থেকে অপহৃত অন্য ২৫ শ্রমিক উদ্ধার হয়নি। সন্ত্রাসীরা অপহৃত শ্রমিকদেন মুক্তির বিনিময়ে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে। তবে মুক্তিপণের বিষয়েও এখনো কোনো সুরাহা করতে পারেনি বাগান মালিকরা।
ভিকটিমদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের মুরংঝিরি এলাকা থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ২৬ জন রাবার শ্রমিককে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ উদ্ধার অভিযানে নামে।
এদিকে গতকাল সকালে অপহৃতদের মধ্যে জিয়াউর রহমান (৪৫) নামে এক শ্রমিক সন্ত্রাসীদের হাত থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন লামা থানার ওসি মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি জানান, রবিবার রাতে যৌথ অভিযান চলার সময় জিম্মিদের নিয়ে সন্ত্রাসীরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। এই সুযোগে সন্ত্রাসীদের নজর এড়িয়ে জিয়াউর রহমান পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ফিরে আসা শ্রমিক জিয়াউর রহমান গজালিয়া রাবার বাগানের মালিক শাহজাহানের বাগানে কর্মরত ছিলেন। পালিয়ে এসে জিয়াউর রহমান তাকে বিস্তারিত তথ্য জানান।
শ্রমিক জিয়াউর রহমান জানান, অপহরণকারীরা সংখ্যায় ১২ থেকে ১৪ জন ছিল। তাদের সবার হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল। তারা জলপাই রঙের ইউনিফর্ম পরিহিত ছিল। তাদের কারও কারও মুখোশ পরা ছিল।
তবে তারা কোন সংগঠনের সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। বান্দরবান জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যৌথবাহিনীর উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। তবে বারবার শ্রমিক অপহরণের ঘটনায় লামা উপজেলায় সর্বাত্মক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।