বরিশালের উজিরপুরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক প্রবাসীর স্ত্রী ও এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করেছে প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে আদালতে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মোড়াকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটককরা হলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার উত্তর পালরদী গ্রামের আকবর তালুকদারের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৫) ও উজিরপুর উপজেলার এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী। ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক খুঁটির দুই পাশে প্রবাসীর স্ত্রী এবং ওই যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তি এসে দুজনকে লাঠি দিয়ে বেধড়কভাবে পেটাচ্ছেন।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খুঁটির সঙ্গে বাঁধা প্রবাসীর স্ত্রীর নেকাব এক নারী ও পুরুষ খুলে ফেলেছে। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রী আকুতি করছেন। পাশ থেকে এক পুরুষ বলছে কেউ মারধর করবি না।
ওই বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত। মঙ্গলবার সকালে ওই যুবক প্রবাসীর বাড়ি এসে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। এরপরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের আটক করেন।
অভিযুক্ত সাদ্দামের বাবা আকবর তালুকদার বলেন, কয়েক দিন আগে তার দোকান থেকে সেলাই মেশিন কেনেন ওই নারী। মেশিনের মোটর নষ্ট হলে সেটি মেরামত করতে ওই নারী তার ছেলেকে ডেকে নেন। এরপর বাড়ির লোকজন তার ছেলের ওপর মিথ্যে অপবাদ দিয়ে বেঁধে পিটিয়েছে। তার ছেলে নির্দোষ বলে তিনি দাবি করেন।
আকবর তালুকদারের দাবি, ‘টুলু সরদার নামে একজন তাকে ফোন করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তার ছেলের ওপর পাশবিক নির্যাতন করে। তার মোটরসাইকেলের খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি। পুলিশ আমাদের মামলা না নিয়ে উল্টো তাদের করা মামলায় সাদ্দাম আর ওই গৃহবধূকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ওসি আবদুস সালাম জানান, এর আগে তাদের স্থানীয়রা আটক করলে, অনৈতিক সম্পর্কে না জড়ানোর জন্য মুচলেকা নিয়েছে। এরপর আবার গেলে তাদের আটক করে। খবর পেয়ে তারা গিয়ে উদ্ধার করেছেন। এ সময় দুজনকে খুটিতে বেঁধে নির্যাতন করার কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। পরে দুজনকে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কেউ যদি নির্যাতনের স্বীকার হয়ে থাকে তাহলে তাদের পরিবার মামলা দিলে আমরা বিষয়টি দেখব। কিন্তু কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।