মিয়ানমারে শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছে হাজার হাজার। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর মান্দালয়ে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, এপি
খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের চার দিন পার হয়ে যাওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। গৃহযুদ্ধের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির মানবিক সংকট বহু পুরোনো। এ ভূমিকম্প সে সংকট আরও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে। গতকাল দেশটির রাজধানী নেপিদোর একটি ফোরামে জান্তা সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেন, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭১৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ৪ হাজার ৫২১ জন আহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৪৪১ জন।
জানা গেছে, মিয়ানমারের বিভিন্ন অংশ থেকে অনুভূত হয়েছে এ বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এতে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। সড়ক ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একদিকে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। বেশির ভাগ প্রাণহানি হয়েছে মান্দালয় ও নেপিদোতে। ইউনিসেফের মিয়ানমার প্রতিনিধি জুলিয়া রিস বলেন, এখানে ব্যাপক সহায়তা দরকার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আরও বাড়ছে। জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ কমে আসছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরবরাহের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ভারী যন্ত্রপাতিরও ঘাটতি রয়েছে। এতে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেও কেবল হাত দিয়ে উদ্ধার করতে হচ্ছে অনেককে।
মিয়ানমার ফর দি ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির প্রোগ্রাম উপপরিচালক লরেন ইলারি বলেন, ‘কী মাত্রায় ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তা বর্তমান পর্যায়ে এসেও আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না। মান্দালয়ের অন্তত ৮০ শতাংশ ভবন ভেঙে পড়েছে।’
দেশটির তিনটি হাসপাতাল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে ও ২২টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি ভবন ধসে পড়েছে।
ত্রাণবহরে গুলি : মিয়ানমারে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত অঞ্চলে চীনা ত্রাণসহায়তা বহনকারী গাড়িবহর লক্ষ করে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে দেশটির জান্তা সেনারা। মঙ্গলবার রাতে চীনা রেড ক্রসের গাড়িবহর লক্ষ করে এ গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বেইজিং। তবে গুলিতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ বিষয়ে গতকাল মিয়ানমার জান্তা সরকারের মুখপাত্র জ্য মিন তুন বলেন, চীনা রেড ক্রস সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিল, তবে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। গাড়িবহরে স্থানীয় কিছু যানবাহনও ছিল, যা দেখে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়ে সতর্ক করে।