জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত দিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। মূলনীতি অক্ষুণ্ন রেখে সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। গতকাল জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে কমিশন কার্যালয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বদিউল আলম মজুমদারের কাছে লিখিত প্রস্তাব জমা দেয় দলটি।
প্রস্তাব জমা দিয়ে ন্যূনতম বিষয়ে একমত হয়ে অগ্রসর হতে পারলেই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল যেসব বিষয়ে একমত হবে, সেসব সংস্কার বাস্তবায়নে এবং বাকিগুলো নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা রাষ্ট্রের নাম ও সংবিধানের মূল নীতিমালা অক্ষুণ্ন রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছি। স্বাধীনতার ঘোষণায় উল্লেখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সাময়িক ন্যায়বিচারকে যুক্ত করার প্রস্তাব রেখেছি। লিখিত মতামতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কমিশনের ১৬৬টি প্রস্তাবনার মধ্যে ১২২টিতে একমত, ২১টিতে ভিন্নমত এবং ২৩টিতে আংশিক দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা প্রার্থীদের বয়স কমানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এ ছাড়া বৈষম্য বিলোপে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।এদিকে কমিশনে দেওয়া চিঠিতে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক উল্লেখ করেন, স্প্রেডশিটে যেভাবে উত্তর চাওয়া হয়েছে তা যথেষ্ট বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি সম্পর্কে যেভাবে মতামত দিতে বলা হয়েছে তাতে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকৃত অবস্থান ব্যক্ত করা দুরূহ। তিনি বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে, রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের মতাদর্শিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, লিংগীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের জন্য তার নাগরিকদের মধ্যে কোনো বৈষম্য করবে না। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বয়স ২৫ বছর রাখার পক্ষেই মত দিয়েছি। সংসদের উচ্চতর কক্ষে ১৫০ আসন নির্ধারণ করে দলসমূহের সারা দেশে প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে আসন নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছে।