পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বোলান জেলার মুশকাফ এলাকায় ‘জাফর এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করেছে বেলুচ লিবারেশন আর্মির সশস্ত্র জঙ্গিরা। গতকাল বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পেশোয়ারে যাচ্ছিল ট্রেনটি। ওই সময় সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলার কবলে পড়ে ট্রেনের যাত্রীরা। বেলুচ লিবারেশন আর্মি জানিয়েছে, তারা নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের ছেড়ে দিয়েছে। এখন তাদের জিম্মায় ১৮২ জন আটক রয়েছে। যার মধ্যে সেনা, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। এদিকে এরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পাহাড়ি ওই অঞ্চলটিতে সব ধরনের যাতায়াত বন্ধ করে দেয় এবং ট্রেনটিকে ঘিরে ফেলে। জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে জঙ্গিদের সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে বলে সর্বশেষ তথ্যে জানিয়েছে জিও টিভি। বেলুচিস্তানে ট্রেনের জিম্মি যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানের সেনারা। সংবাদমাধ্যম জিও টিভি জানিয়েছে, গতকাল বেশকিছু জঙ্গি রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও গুলি ছুড়ে ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে। ওই সময় ট্রেনটির ৯টি বগিতে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন যাত্রী ছিল। হামলার সময় ট্রেনটি বেলুচিস্তানের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পেশোয়ারে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতরা আফগানিস্তানে তাদের মাস্টারমাইন্ডদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং নারী ও শিশুদের মানববর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে জঙ্গি ও সেনাদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই হচ্ছে। এর মধ্যে ওই অঞ্চলে উদ্ধারকারীদের পাঠানো হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো হতাহতের তথ্য জানায়নি। এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে বেলুচ সন্ত্রাসীরা। তারা বলেছে, যদি ড্রোন/হেলিকপ্টার থেকে হামলা বন্ধ না করা হয় তাহলে সব জিম্মিকে হত্যা করা হবে। এ ব্যাপারে জঙ্গি গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা পুলিশ কোনো ধরনের অভিযান চালানোর চেষ্টা করে তাহলে ১০০ জনেরও বেশি জিম্মি সবাইকে হত্যা করা হবে।’
এর আগে এক বিবৃতিতে জিয়ান্দ বেলুচ বলেন, যে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের জবাব সমান শক্তিতে দেওয়া হবে।’ এ ছাড়া তিনি ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করার তথ্য স্বীকার করেন।
বেলুচিস্তানের রেলওয়ে বিভাগের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বোলান জেলার মুশকাফে ট্রেনটিতে হামলা হয়েছে। ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছেছেন। এলাকাটি পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় সেখানে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেখানে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন যাচ্ছে। এতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রয়েছে।