রাজধানীর গুলশানের শাহজাদপুর এলাকায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরেকজনের পরিচয় জানা গেছে। নিহতের নাম ইশরাফিল আলম সজীব (৪০)। তিনি নদ্দা এলাকায় ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করতেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করেন। নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে দ্বিতীয় তলার বিউটি পারলার থেকে। আর অতিমাত্রায় ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবেই মারা যান চারজন।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিহত সজীবের শ্যালক মিজবাউল হক শান্ত বলেন, সজীবের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আরাফপুর গ্রামে। বাবার নাম হাজি ইয়াছিন। গুলশানের নর্দ্দা কালাচাঁদপুর এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন তিনি। ওই এলাকাতেই নিউ ঢাকা হলিডে নামে ট্রাভেলস এজেন্সির ব্যবসা রয়েছে তার। বিকাল থেকে সজীবকে ফোনে পাচ্ছিলেন না তার স্ত্রী। সন্ধ্যার দিকে সজীবের স্ত্রী আফসানা মিমি ফোন দিয়ে সজীবের বিষয়টি শান্তকে জানান। রাত ৮টার দিকে গুলশান থানায় খোঁজ করতে গেলে পুলিশ ঢাকা মেডিকেলে তিনটি অজ্ঞাত লাশ আছে বলে সেখানে খোঁজ নিতে বলে। রাতে ঢাকা মেডিকেলে এসে বোন জামাই সজীবের লাশ দেখতে পাই।
গুলশান থানার এসআই পলাশ হোসেন জানায়, বিউটি পারলার থেকে সৃষ্ট আগুন বাড়তে থাকে আর প্রচণ্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। চারটি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। সজীবের আগে আরও একটি লাশ (মিরন জমাদ্দার (৫৫)) শনাক্ত হয়। বাকি দুটি লাশ এখনো অজ্ঞাত হিসেবে রয়েছে। তাদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছর।
গত সোমবার দুপুরে রাজধানীর শাহজাদপুরের বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম এভিনিউর সৌদিয়া হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারজনের মৃত্যু হয়, আহত হয় আরও দুজন। ওই ভবনের ছয় তলার সিঁড়ি ও একটি বাথরুম থেকে ৪ পুরুষের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।