খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদকে অপসারণ ও ছাত্ররাজনীতি বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকালে প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সাব্বির আহমেদের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তারা।
এদিন বিকাল ৩টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়। পরে কাকরাইল মসজিদের গেটের কাছে পৌঁছালে তাদের আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে সেখানেই প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সাব্বির আহমেদ তাদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। পরে শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করেন কুয়েট শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বলেন, যদি দাবি না মানা হয়, তবে কুয়েটের ৫ হাজার শিক্ষার্থী কঠোর আন্দোলনে নামবে। এর আগে ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শরিফুল ইসলামের অপসারণ এবং নতুন নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে গতকাল সকাল ৮টায় দুটি বাসে করে ৮০ জন শিক্ষার্থী ঢাকায় রওনা হন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাথায় লাল কাপড় বাঁধা ছিল।
যাত্রা শুরুর আগে ক্যাম্পাসে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীন। এজন্য আমরা দাবি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে করব। এরপর নিরাপদ জায়গায় চলে যাব। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ফিরব না। অনলাইনে আমাদের কার্যক্রম চলবে।
তারা বলেন, ভিসিসহ কিছু শিক্ষক বলার চেষ্টা করছেন আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বক্তব্য। হামলাকারীরা স্পষ্ট এবং চিহ্নিত কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমাদের মনে হচ্ছে কুয়েট প্রশাসনেরই সমস্যা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।