রমজান মাস তওবা ইস্তিগফারের মাস। রবের কাছে বান্দার ক্ষমাপ্রার্থনার মাস। এ মাসে প্রত্যেক বান্দার উচিত বেশি বেশি তওবা করা। তওবার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা। পরিভাষায় গুনাহের কাজ ছেড়ে দিয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহমুখী হওয়াকে তওবা বলা হয়। আল্লাহর অনেক সিফাতি বা গুণবাচক নাম রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি হলো গফুর ও গাফফার; যার অর্থ, মহা ক্ষমাশীল। বান্দা যতই অপরাধ করুক না কেন মহান আল্লাহর কাছে রয়েছে দয়া ও ক্ষমার অফুরন্ত ভান্ডার। কোনো পাপী বান্দা যখনই বিনয়ী হয়ে হৃদয়ের পুরোটা আবেগ উজাড় করে মাফ চায়, দয়াময় আল্লাহ যেকোনো সময় তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। এমনকি শুধু মাফ করেই বসে থাকেন না, বরং তার প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণাও দেন। এ মর্মে আল্লাহ নিজেই বলেন, নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, ক্ষমাশীল, পরম ক্ষমাপরায়ণ। নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল। সুরা হজ, আয়াত নং ৬০। এ প্রসঙ্গে অন্য আয়াতে আরও ইরশাদ হয়েছে (হে নবী, আপনি) বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহতায়ালার রহমত থেকে নিরাশ হইও না। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু! সুরা জুমার, আয়াত নং ৫৩। বান্দাদের তওবার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে অন্য আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন হে ইমানদাররা, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর; তবেই তোমরা নিঃসন্দেহে সফলতা লাভ করবে। সুরা নুর, আয়াত নং ৩১। ক্ষমা লাভ বা তওবা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে যতটা খুশি হয়, আল্লাহতায়ালা বান্দার তওবায় তার চেয়েও অনেক বেশি খুশি হন। সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৩০৯।
এ ছাড়াও তওবা, ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বান্দার মুখাপেক্ষিতার স্বীকারোক্তি উচ্চারিত হয়। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়। এ মর্মে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন। সুরা বাকারা, আয়াত নং ২২২। হাদিসে এসেছে আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ১০০ বার ইস্তিগফার করতেন। কারণ তওবা ও ইস্তিগফার মানুষের পাপাচার মিটিয়ে পবিত্র জীবন দান করে। পাপপঙ্কিলতা ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়। এ প্রসঙ্গে হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ হয়েছে- আল্লাহতায়ালা বলেছেন, হে আমার বান্দারা! তোমরা দিনরাত যত গুনাহ করতে থাক, আমি তোমাদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেব। তোমরা ইস্তিগফার কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব। সহিহ মুসলিম।
এ ছাড়া তওবা ও ইস্তিগফারের দ্বারা আল্লাহর দরবারে বান্দার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। মর্যাদা বহুগুণ বাড়তে থাকে। সাধারণত প্রবৃত্তির তাড়নায় পড়ে বান্দা পাপাচার করে। বিপথগামী পথে নিজেকে পরিচালিত করে ও পূতপবিত্র আত্মাকে কলুষিত করে। তারপর বান্দা যখন নিজের ভুলত্রুটি বুঝে আল্লাহর দরবারে তওবা করে তখন মহান স্রষ্টা তাকে ক্ষমা করে দেন। তার নূরের আলোতে বান্দার জীবনকে আলোকিত করে দেন। আর এ সুযোগ রমজান মাসেই বেশি আসে। অল্প নেক আমল করেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়ে যাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে নেকির প্রত্যাশায় রমজানের রাতে ইবাদত-বন্দেগি করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৭। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, ‘রমজান মাসের প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় বহু মানুষকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন। তাই রমজান মাসে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করে নিজের জীবনের সব ভুলত্রুটি মাফ করানোর অপার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং এ সুযোগকে সবাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
বিডি প্রতিদিন/এমআই