রোজাদারের জন্য রাতের শেষাংশে সুবহে সাদিকের আগে আগেই সাহরি খাওয়া সুন্নত। অর্ধরাতের পর যে সময়ই সাহরি খাবে—সাহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু রাতের শেষাংশে সাহরি খাওয়া উত্তম। যদি মুয়াজ্জিন সময় হওয়ার আগে ফজরের আজান দিয়ে দেন, তাহলে সাহরি খাওয়া নিষিদ্ধ নয়—যতক্ষণ সুবহে সাদিক না হয়, ততক্ষণ খেতে পারবে।
সাহরি খাওয়ার পর রোজার নিয়ত অন্তরে করাই যথেষ্ট। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা জরুরি নয়। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : ১/৩৮১)
সাহরি ও ইফতারের জন্য দফ বাজানো
যেভাবে বিবাহ ও যুদ্ধের ঘোষণার জন্য দফ বাজানোর কথা বিভিন্ন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, তেমনি চাঁদ দেখা এবং সাহরি ও ইফতারের সময় প্রয়োজনে ঘোষণার উদ্দেশ্যে দফ বাজানো জায়েজ। তবে শর্ত হচ্ছে, প্রচলিত বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে যেন না হয়।
(ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া: ৩/৪০, শামি : ৫/৩০৭)
সাহরি খাওয়ার সুন্নত আদায়ে পান খাওয়া
সাহরি খাওয়া সুন্নত। যদি ক্ষুধা না লাগে এবং খানাও না খায়, কমপক্ষে দু-তিনটি খেজুর খেয়ে নেবে অথবা অন্য কোনো জিনিস সামান্য পরিমাণ অথবা বেশি পরিমাণ খেয়ে নেবে। যদি তা না হয়, তবে সাদা পানিই পান করবে। যদি কেউ সাহরির খানা না খায়, তাহলে উঠে একটি বা অর্ধেকটি পান খেয়ে নেবে, তাহলেও সাহরির সওয়াব পেয়ে যাবে।
(বেহেশতি জেওর : ৩/১৪; শরহুল বিদায়াহ : ১/২০৫)
তাড়াতাড়ি সাহরি ও শেষ সময়ে পান খাওয়া
যথাসম্ভব সাহরি দেরি করে খাবে। কিন্তু এতটা নয়, রোজা হওয়ার ব্যাপারেই আশঙ্কা হয়। (বেহেশতি জেওর : ৩/১৪)
যদি কেউ সাহরি তাড়াতাড়ি খেয়ে নেয় তারপর পান, তামাক, চা ইত্যাদি দেরি করে পানাহার করে আর যখন সুবহে সাদিক হওয়ার সামান্য সময় বাকি থাকে তখন কুলি করে নেয়, তাহলে বিলম্ব করে সাহরি খাওয়ার সওয়াব পেয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে পান দেরি করে খাওয়া ও সাহরি দেরি করে খাওয়ার বিধান একই। (বেহেশতি জেওর : ৩/১৪; শরহুল
বিদায়াহ : ১/২০৫)
আজানের সময় মুখের লুকমা গিলে ফেলা
আজান হতেই সাহরি খাওয়া বন্ধ করে দিল, কিন্তু মুখে যে দু-এক লুকমা ছিল তা গিলে ফেলল।
তাহলে যদি প্রবল ধারণা হয়, সুবহে সাদিক হওয়ার পরই আজান শুরু হয়েছে, তাহলে রোজা হবে না। আর যদি সন্দেহ হয়, তাহলে ওই সময় পানাহার করা মাকরুহ; কিন্তু রোজা হয়ে যাবে।
(আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৩২)
ভুলে সুবহে সাদিকের পর সাহরি খাওয়া
যদি কারো ঘুম দেরি করে ভাঙে এবং মনে হয়, এখনো রাত বাকি আছে। এ ধারণায় সাহরি খাওয়ার পরে জানতে পারল, প্রভাত হয়ে যাওয়ার পরে সাহরি খেয়েছে, তাহলে রোজা হবে না। তবে এই রোজা পরে (শুধু) কাজা রাখবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। এরপর সারা দিন কিছুই পানাহার করবে না, রোজাদার ব্যক্তির মতো থাকবে। এমনিভাবে সূর্য ডুবে গেছে মনে করে ইফতার করার পর সূর্য দেখা গেল, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে কাজা করবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য না ডোবে কিছু পানাহার করা ঠিক নয়। (বেহেশতি জেওর : ৩/১৪; শরহুল বিদায়াহ : ১/২০৫)
সাহরি খাওয়া ছাড়া রোজা
সাহরি খাওয়া ছাড়া রোজা হবে কি?
সাহরি খাওয়া রোজার জন্য মুস্তাহাব। সুতরাং সাহরি ছাড়া রোজা হয়ে যাবে।
(ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম : ৬/৪৯৬)
যদি রাতে সাহরি খাওয়ার জন্য ঘুম না ভাঙে, তাহলে সাহরি খাওয়া ছাড়াই রোজা রাখবে। সাহরি ছুটে যাওয়ার কারণে রোজা ছেড়ে দেওয়া কাপুরুষতার লক্ষণ এবং বড় গুনাহ।
(বেহেশতি জেওর : ৩/১৪)
সময় শেষ হওয়ার পর সাহরি খাওয়া
যদি এতটুক দেরি হয়ে যায় যে সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার সন্দেহ জাগে, তাহলে তখন কিছু খাওয়া মাকরুহ। এ সময় কিছু পানাহার করলে গুনাহ হবে। এরপর যদি জানা যায়, ওই সময় প্রভাত হয়ে গিয়েছিল, তাহলে এ রোজার কাজা রাখবে। আর যদি জানা না যায়, বরং সন্দেহ সন্দেহই থেকে যায়, তবে কাজা রাখা ওয়াজিব নয়। কিন্তু সতর্কতা হলো, এর কাজা রাখা। (বেহেশতি জেওর : ৩/১৪, শরহুল বিদায়াহ : ১/২০৫)
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন