ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যেতে রাজি আছে ইসরায়েল। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’র। জেরুজালেমে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে দখলদার এ মন্ত্রী জানান, এ ক্ষেত্রে তাদের পূর্বশর্ত হলো হামাসকে তাদের সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে গাজাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে অস্ত্র ফেলে দিতে হবে।
তবে ইসরায়েলের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা সামি আবু জুহরি জানিয়েছেন, অস্ত্র সমর্পণ তাদের ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য ‘রেড লাইন’। তারা এতে কখনো রাজি হবেন না। তিনি বলেন, প্রতিরোধ বাহিনীর অস্ত্র নিয়ে কোনো ধরনের কথা বলা বোকামি। প্রতিরোধের অস্ত্র হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য রেডলাইন। ২০০৭ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। এরপর ওই অঞ্চলটি তারাই শাসন করে আসছে। সঙ্গে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও গঠন করতে সমর্থ হয় তারা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দখলদার ইসরায়েলের বিভিন্ন অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালায় হামাস ও ইসলামিক জিহাদ। ওই সময় ইসরায়েল থেকে ২৫০ জিম্মিকে ধরে নিয়ে আসে তারা। এরপর ওইদিন থেকেই গাজায় নির্বিচার ও বর্বর হামলা চালানো শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। টানা ১৫ মাস চলা এসব হামলায় গাজায় প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েল এখন শর্ত দিচ্ছে, হামাসকে গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হবে। আর এটি করলেই তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে। যদিও যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল ঠিক করেছিল, হামাসকে যুদ্ধের মাধ্যমে তারা নির্মূল করবে। কিন্তু এতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে দখলদার বাহিনী। -এএফপি