ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সৌদি আরবে গতকাল বৈঠক করেছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। এ আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এতে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। বৈঠকে ইউক্রেন ও ইউরোপের কেউ ছিলেন না। বিবিসির প্রতিনিধি টম ব্যাটম্যান জানিয়েছেন, মিটিংয়ের শুরুতে উভয় দল নিশ্চুপ বসে ছিল। তখন তিনি রুবিওকে জিজ্ঞেস করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বঞ্চিত করছে কি না। রুবিও কোনো উত্তর দেননি। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার স্বার্থে দল গঠন করতে সম্মত হয়েছেন তাঁরা। উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবে। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন ও মস্কো দূতাবাসের কর্মী পুনর্বহালেও সম্মত হয়েছে।
এদিকে এ বৈঠকে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে রাশিয়া। অন্যদিকে, আরটির প্রতিবেদন বলছে, সরাসরি জেলেনস্কির সঙ্গে আলাপ করতে প্রস্তুত পুতিন। আর জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে ছাড়া কোনো শান্তিচুক্তি মানবেন না তাঁরা। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠকের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর দেশগুলো। তারা বলেছে, ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধাবসানের আলোচনা এ মহাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তারা রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনায় ইউরোপকে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। রিয়াদে বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ডেকে নিয়ে দৃশ্যধারণের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে কেবল দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠকটি শুরু হয়। বুধবার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তাঁরা আলোচনা শুরু করবেন। টেলিফোনে আলাপকালে বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর এ দুই রাষ্ট্রনেতা মধ্যপ্রাচ্যসংকট, জ্বালানি, মার্কিন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন। -রয়টার্স ও বিবিসি