ঘুষ গ্রহণসহ একাধিক অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সহধর্মিণী (ফার্স্ট লেডি) কিম কিওন হিয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার এক বিশেষ তদন্ত দলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
ফার্স্ট লেডির বিরুদ্ধে এই অভিযোগের কারণে দেশটির সামরিক আইন ঘিরে চলমান সংকট ও ক্ষমতাধর এই দম্পতিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত কেলেঙ্কারির তদন্তের বিষয়টি আরো গভীর হলো। দেশটির একটি বিশেষ প্রসিকিউশন দল জানিয়েছে, সামরিক আইন সংকট ও নানা কেলেঙ্কারিকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। একইসঙ্গে দলটির দাবি, এই বিষয়ে তদন্ত আরো জোরালো করতে হবে। ইউন ও কিম দুজনকেই গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ইউনের বিরুদ্ধে দেশটিতে সামরিক আইন চাপিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টার জেরে এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহসহ একাধিক অভিযোগে বিচার চলছে।
নতুন উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং জুনের শুরুতে ক্ষমতায় আসার পর ইউন ও কিমের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা তদন্তে নিযুক্ত হয়েছেন বিশেষ তদন্তকারীরা। অভিযোগ গঠনের পর এক বিবৃতিতে কিম কিওন হি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি কোনো অজুহাত দাঁড় করাবেন না এবং আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘যেমনটি অন্ধকার রাতে জ্যোৎস্না সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, তেমনি আমিও সত্য ও হৃদয়ের আলোয় এই সময়টা পার করব।’ তবে তার আইনজীবীরা স্পষ্টভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন, বিশেষত উপহার গ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগ।
বিশেষ তদন্তকারীদের দাবি, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে কিম স্টক মার্কেট জালিয়াতির মাধ্যমে ৮১০ মিলিয়ন ওয়ন (প্রায় ৫.৮৩ লাখ মার্কিন ডলার) অবৈধভাবে আয় করেছিলেন। এ ছাড়া, তাকে ইউনিফিকেশন চার্চের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে ৮০ মিলিয়ন ওয়ন মূল্যের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘুষের মধ্যে দুটি শ্যানেল ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও একটি হীরার হার ছিল। বিনিময়ে তিনি ঐ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থে প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ। কিম কিওন হি একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে তার প্রভাবশালী অবস্থান ছিল এবং তাকে তার স্বামীর উত্থানে একটি বড় ভূমিকার দাবিদার মনে করা হতো।
কিন্তু ডিসেম্বরের সামরিক আইন ঘোষণার পর থেকে সেই প্রভাব দ্রুত ভেঙে পড়ে এবং দেশের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়।
ইউনিফিকেশন চার্চ (ফ্যামিলি ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস অ্যান্ড ইউনিফিকেশন) জানিয়েছে, তাদের এক সাবেক কর্মকর্তার অনিয়ম ঠেকাতে না পারাটা ‘গভীর অনুশোচনার বিষয়’, তবে তারা সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার আরো নাটকীয় ঘটনায়, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুককেও অভিযুক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সহায়তা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ তদন্ত দলের মুখপাত্র পার্ক জি-ইয়ং বলেন, ‘এই অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে, তিনি প্রেসিডেন্টের অসাংবিধানিক ও অবৈধ সামরিক আইন বন্ধ করতে পারতেন।’
হান আগে পাঁচজন প্রেসিডেন্টের অধীনে বিভিন্ন উচ্চ পদে কাজ করেছিলেন। ইউন অপসারিত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরে তাকেও অভিশংসন করা হয়, যদিও সাংবিধানিক আদালত সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দেয়। তিনি জুনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পদত্যাগ করেন। কিন্তু রক্ষণশীল শিবিরের বিভক্তির কারণে বন্ধ করে দেন সেই নির্বাচনী প্রচারণা।সূত্র: রয়টার্স।
বিডি প্রতিদিন/এএম