ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বদলে গেছে অনেক সমীকরণ। দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ হয়ে গেছে ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা। হুমকির মুখে ন্যাটো ভবিষ্যৎ। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর ভরসা না করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
এ অবস্থায় পাঁচ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসেছেন ইউরোপের নেতারা। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে দিনব্যাপী এ বৈঠকে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ কয়েক শ’ কোটি ডলার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছেন তাঁরা।
বৈঠকের আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা জানান। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে ৮৬০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। ইইউ’র এ পরিকল্পনাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে ইইউ’র নেতারা ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেন। সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২৭টি সদস্য দেশের হয়ে ইইউ ১৫ হাজার কোটি ইউরো ঋণ নেবে। সেই অর্থ দেশগুলো নিজেদের এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা জোরালো করবে।
যৌথ বিবৃতিতে ২৭ দেশের শীর্ষনেতারা জানিয়েছেন, তাদের মন্ত্রীরা এখন এই প্রস্তাব নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা আর ইউরোপের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারবে না। তারা ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য ও গোয়েন্দা তথ্য দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার জন্য তারা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপর সমানে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
ব্রাসেলসের বৈঠকে ইইউ নেতারা আগের মতোই ইউক্রেনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। শুধুমাত্র হাঙ্গেরির নেতা ভিক্টর অর্বান এই প্রস্তাব সমর্থন করেননি।
ইউক্রেন নিয়ে ২৬টি দেশের নেতা জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। ইউক্রেনকে আগের মতোই সাহায্য করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ইইউ নেতারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষাখাতে খরচ বাড়ানোটা জরুরি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বৈঠকের পরে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে যা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের প্রতিরক্ষা বাড়াতেই হবে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের তরফে আন্তেনিও কোস্তা বলেছেন, ‘আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেটাই পালন করছি। আমরা আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’
জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেছেন, ‘ইইউ যে ঋণ নেয়ার নিয়ম শিথিল করে প্রতিরক্ষাখাতে খরচ বাড়ালো, এটা খুবই বড় সিদ্ধান্ত। তারা এই ক্ষেত্রে জার্মানিকেই অনুসরণ করছে।’
ফ্রান্স প্রস্তাব দিয়েছে, ইউরোপকে তারাই পরমাণু সুরক্ষা দেবে। এখন আমেরিকা এই সুরক্ষা দেয়। কিন্তু তার বদলে ফ্রান্স এই সুরক্ষা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এই প্রস্তাব নিয়ে সম্পূর্ণ মতৈক্য হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরাপত্তা দেয়ার বদলে ফ্রান্সের পরমাণু-সুরক্ষার বিষয়টি শলৎস এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু মাক্রোঁ বলেছেন, ইইউ নেতারা তার কাছে ফ্রান্সের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তার আশা, আর কিছুদিনের মধ্যেই এই বিষয়ে সহযোগিতার ছবিটা সামনে আসবে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত