জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সমাবেশের শুরুও নেই শেষও নেই। গতকাল রাজধানীর পল্টন মোড়ে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, অনতিবিলম্বে আমাদের নিবন্ধন ফিরিয়ে দিন। জালেম সরকার যা করেছে, আপনারাও কি তাই করবেন? এজন্য কি ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে? আর কোনো বৈষম্য আমরা মেনে নেব না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ টি এম আজহারুল ইসলাম বিনা দোষে ১২-১৩ বছর কারাগারের নির্যাতন ভোগ করছেন। আর ১৩টি মিনিট তিনি জেলের ভিতরে থাকুক সেটা আমরা চাই না। আমাদের আর ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। আমরা ভদ্র কিন্তু বোকা নই। আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। ভদ্র মানুষেরা যখন শক্ত হয় তখন কেমন হতে পারে তা দেশের মানুষ দেখেছেন।
তিনি বলেন, আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। যুদ্ধ চলমান। রাজপথে জীবন দেওয়ার জন্য আমাদের হাজার হাজার ছাত্র-জনতা প্রস্তুত। সব ষড়যন্ত্র তারা ব্যর্থ করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। তার প্রধান থাবা পড়েছিল জামায়াতে ইসলামীর ওপর। সে সময় দায়িত্ব নিয়েছেন এ টি এম আজহার। বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হলেও ফ্যাসিবাদের প্রথম সাক্ষী এ টি এম আজহারকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এ টি এম আজহার কবে মুক্তি পাবেন তা সুস্পষ্ট জানিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা ভাবতেও পারিনি তার মুক্তিতে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। আজ থেকে তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সমাবেশের শুরুও নেই শেষও নেই। জামায়াত আমির বলেন, আমরা মনে করি সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে। একে একে মজলুমদের মুক্তি দিয়েছেন, সর্বশেষ মজলুমকেও মুক্তি দিন। এর মধ্যে যারা হারিয়ে গেল তাদের তো ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কখনো কারও সঙ্গে আপস করিনি। ফাঁসির কাষ্ঠে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের নেতারা কারও সঙ্গে আপস করেননি। তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য নানা মহল থেকে আপস করার কথা বলা হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে পল্টন মোড় থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ হয় শাহবাগে গিয়ে। সমাবেশ ঘিরে পল্টন মোড়, বায়তুল মোকাররম, নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল, জিরো পয়েন্ট ও প্রেস ক্লাব এলাকা ছিল লোকারণ্য। দুপুর থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পল্টনের উদ্দেশে আসতে থাকেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। এদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
খুলনা : খুলনার ঐতিহাসিক শহীদ হাদিস পার্কে গতকাল বিকালে বিশাল সমাবেশ হয়। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে লালদীঘির মাঠে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, আজকে গোটা বাংলাদেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। আমরা বন্দিশালার তালা ভাঙতে চাই না। বিগত ১৫ বছর আমাদের রক্ত ঝরেছে, কারাবরণ ও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে। বিরোধী দল দমন করার জন্য গায়েবি মামলা দায়ের করেছিল। জামায়াতকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছিল। তিনি বলেন, যে সাজানো মামলা এবং ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে তৎকালীন কথিত রায়ে এটিএম আজহারকে বন্দি রাখা হয়েছে।
সিলেট : দুপুরে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা রেজিস্ট্রারি মাঠে এসে জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবীবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলী।
বরিশাল : নগরীর অশি^নী কুমার হল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিতীয় বারের মতো স্বাধীন হলেও বৈষম্য এখনো দূর হয়নি। চরম জুলুম করা হয়েছে এটিএম আজহারুল ইসলামের ওপর। যুদ্ধাপরাধ নামের তথাকথিত মিথ্যা মামলায়, নাটকীয় সাজার রায় দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুর : কেন্দ্র ঘোষিত জামায়াতের কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর শহীদ মিনারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মাসুদ সাঈদী বলেন- ৫ আগস্ট একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। যে প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা এসেছিল সেই প্রত্যয়ের ব্যত্যয় কেন আজহারুল ইসলামের ব্যাপারে হলো। কেন আজকেও তাকে মুক্তি দেওয়া হলো না। তার মুক্তির দাবিতে কেন আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে।
এ ছাড়া রংপুর, সাতক্ষীরা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, নড়াইল, মাগুরা, নাটোর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, ঝালকাঠি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, জামালপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ সারা দেশে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে জামায়াতে ইসলামী।