বুধবার (১৯ মার্চ) বেলা ২টা। ঈদের কেনাকাটা করতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরাবো এলাকা থেকে ভুলতা গাউছিয়া মার্কেটে যাচ্ছিলেন আশিক-স্বর্ণা দম্পতি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে তিন ঘণ্টায়ও তারা যেতে পারেননি তিন কিলোমিটার। শুধু আশিক-স্বর্ণাই নন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশে প্রতিনিয়ত যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ঈদ এলে দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। আসন্ন ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কাও রয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যাত্রামুড়া থেকে পাইকারি কাপড়ের বাজার ভুলতা হয়ে আধুরিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার চলে গেছে রূপগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে এ মহসড়কে। রূপগঞ্জ অংশে যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। স্বাভাবিকভাবে ১৮ কিলোমিটার যেতে ২০-২৫ মিনিট লাগার কথা। যানজটের কারণে এ অংশটুকু পার হতে লেগে যায় ২-৩ ঘণ্টা। যানজটের অন্যতম কারণ ওভারটেকিং, যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ বাস, সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, উল্টো পথে গাড়ি চালানো। পুলিশ সঠিকভাবে সড়কে দায়িত্ব পালন করছে না এমন অভিযোগও আছে।
মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশে যানজট শুরু হয় দুপুর থেকে আর স্থায়ী হয় গভীর রাত পর্যন্ত। এ চিত্র যেন নিত্যদিনের। ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিন বলেন, মহাসড়ক যাতে যানজটমুক্ত থাকে সেই লক্ষ্যে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।আমানউল্লাহ নামে একজন বাসচালক বলেন, ‘আগে পুলিশ চাঁদা নিত অহন চাঁদা দিতে অয় না। এর লাইগা সড়কে যানজট লাগলেও পুলিশ কাজ করে না। পুলিশের উপরি ইনকাম কইমা গেছে তাই হেরা আগের মতন কাজ করে না।’ রহিম নামে এক যাত্রী বলেন, রূপসী থেকে ভুলতা যাচ্ছিলাম। এ পথ যেতে সময় লাগে ১০ মিনিট কিন্তু জ্যামের কারণে দুই ঘণ্টায় পৌঁছতে পারিনি। প্রতিনিয়ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে। আমাদের সাধারণ মানুষের চলাচলে কষ্টের শেষ নেই।